You have reached your daily news limit

Please log in to continue


চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : ব্রিটিশ শাসনের কালো অধ্যায়

এককালের বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল বাংলাদেশকে একটি বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত এলাকা করা হয়েছিল যেসব ব্যবস্থার মাধ্যমে, তার একটি হলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এখানকার সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ ব্রিটিশরা উদ্ভট যে ব্যবস্থাটি চালু করার মাধ্যমে যে ভয়াবহ ধারার সূচনা করেছিল, তার জের এখনো টানতে হচ্ছে।

জমিদার বলে একটি শ্রেণি আগে থেকে থাকলেও তারা কিন্তু জমির মালিক ছিল না। মাহবুব আহমেদ দেখিয়েছেন, আধুনিক ইউরোপীয় আইনের সংজ্ঞানুযায়ী ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে যা বোঝায়, তা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো ভারতবর্ষেই অনুপস্থিত ছিল। জমির ওপর ব্যক্তির স্বত্ব, অধিকার ও স্বার্থ সব সময়ই সীমিত ছিল। জমির ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ছিল রাষ্ট্রের। ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ারের বাদশাহি আমলের বর্ণনায়ও দেখা যায়, জমির মালিকানা স্বত্ব ছিল সম্রাটের এবং কোনোরকম ব্যক্তিগত মালিকানা ওই সময় ভারতের কোথাও ছিল না।

১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ লর্ড চার্লস কর্নওয়ালিসের প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি প্রথমে বাংলা ও বিহারে এবং পরে বারানসি এবং মাদ্রাজের দক্ষিণ জেলাগুলোয় চালু করা হয়। কাগজে-কলমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষি সংকট এবং দুর্দশার সমস্যার সমাধান করা। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে কৃষির মাধ্যমে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং রাজ্যের রাজস্ব সম্পদ বাড়ানো সম্ভব। ব্রিটিশরা বলেছিল, একবার রাজ্যের রাজস্ব চাহিদা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ হয়ে গেলে নিয়মিত কর আয়ের প্রবাহ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি ভূমির মালিকরা তাদের কৃষিজমিতে বিনিয়োগ করবে। কারণ, উৎপাদক স্থির করের বাইরে থাকা উদ্বৃত্ত নিজেরা রাখতে পারবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় স্বনির্ভর কৃষক শ্রেণি এবং ধনী জমিদারদের উদ্ভব ঘটবে, যারা তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করে আরও উদ্বৃত্ত উৎপাদন করবে। এই নতুন উদীয়মান শ্রেণি ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকবে।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের তাৎক্ষণিক পরিণতি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক ও ভয়াবহ। পরিস্থিতি এমন হবে, তা সম্ভবত কেউ অনুমান করতে পারেনি। জমিদারদের জমি স্থায়ীভাবে ধরে রাখার নিশ্চয়তা এবং নির্দিষ্ট করের বোঝা থাকার ফলে জমিগুলো আকর্ষণীয় পণ্যে পরিণত হয়। এর পাশাপাশি সরকারের করের দাবি ছিল অনমনীয় এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কালেক্টররা খরা, বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতেন না।

জমিদাররাও একই কাজ করতেন। আর কর দিতে না পারলে প্রজাদের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন। জমিদার, ইজারাদার, পত্তনিদার প্রভৃতি রংবেরঙের মধ্যস্বত্বভোগী শোষকরা কৃষকদের ওপর যেসব নির্যাতন চালাত, তার একটি তালিকা তত্ত্ববোধিনী প্রকাশ করেছিল : ‘১. দণ্ডাঘাত ও বেত্রাঘাত, ২. চর্মপাদুকা প্রহার, ৩. বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বক্ষস্থল দলন, ৪. খাপরা দিয়ে নাসিকা-কর্ণ মর্দন, ৫. মাটিতে নাসিকা ঘর্ষণ, ৬. পিঠে হাত বেঁকিয়ে বেঁধে বংশদণ্ড দিয়ে মোড়া দেওয়া, ৭. গায়ে বিছুটি দেওয়া, ৮. হাত-পা নিগড়বদ্ধ করা, ৯. কান ধরে দৌড় করানো, ১০. ফাটা দুখানা বাঁধা বাখারি দিয়ে হাত দলন করা, ১১. গ্রীষ্মকালে ঝাঁ ঝাঁ রৌদ্রে পা ফাঁক করে দাঁড় করিয়ে, পিঠ বেঁকিয়ে পিঠের ওপর ও হাতের ওপর ইট চাপিয়ে রাখা, ১২. প্রচণ্ড শীতে জলমগ্ন করা ও গায়ে পানি নিক্ষেপ করা, ১৩. গোণীবদ্ধ করে জলমগ্ন করা, ১৪. বৃক্ষে বা অন্যত্র বেঁধে লম্বা করা, ১৫. ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ধানের গোলায় পুরে রাখা, ১৬. চুনের ঘরে বন্ধ করে রাখা, ১৭. কারারুদ্ধ করে উপোস রাখা, ১৮. গৃহবন্দি করে লঙ্কার ধোঁয়া দেওয়া।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন