‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’
পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী বাঙালির আন্দোলন কঠোরহস্তে দমনের জন্য একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী, ভয়াবহ সেই নৃশংসতায় শহীদদের স্মরণে পালিত হচ্ছে গণহত্যা দিবস।
সেই কালরাতে চালানো অপারেশন সার্চলাইটের বীভৎসতার ওপর দাঁড়িয়ে মুক্তির যে যুদ্ধ শুরু করে বাঙালি জাতি, তার পথ ধরে নয় মাস পর বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
নানা আয়োজনে বুধবার সেই রাতের শহীদদের বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছে জাতি; হত্যাযজ্ঞের যেই দিনটি জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে
সেই রাতে পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যার শিকার হয় স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের মানুষ। ট্যাংক ও সাঁজোয়া বহর নিয়ে পথে নামে সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে কুখ্যাত অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে তারা শুরু করে নারকীয় গণহত্যা। এটি চলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানাসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায়। পাকিস্তানিদের গুলিতে নিহত অগণিত লাশ ঢাকার রাস্তায় পড়ে থাকে। অসংখ্য ঘরবাড়ি তারা জ্বালিয়ে দেয়। গুঁড়িয়ে দেয় বাঙালির প্রাণের শহীদ মিনার।
তেইশ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতেই এ গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
এ অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্র নেতা এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও হত্যা, সামরিক-আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্রাগার, রেডিও ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ দখলসহ প্রদেশের সামগ্রিক কর্তৃত্ব গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে প্রদেশে পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।