উৎসবের সমাজ, মুক্তিযুদ্ধের দেশ
বাঙালির যূথবদ্ধ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অভিজ্ঞান হলো উৎসব। আমাদের এই ব-দ্বীপে ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কেবল লোকজ বচন নয়, এক শাশ্বত জীবনধারা। সময়ের বিবর্তনে সব ছাপিয়ে ঈদ আজ এদেশের সর্ববৃহৎ উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারের ঈদের বিশেষত্ব হলো—এটি এসেছে এমন এক মাসে, যখন আমরা আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের ভিত্তি অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করি। উৎসবের আনন্দ আর স্বাধীনতার গৌরব, এই দুই সমান্তরাল ধারা আজ আমাদের হৃদয়ে একাকার—দুটোই আমাদের পরম প্রিয়।
একটি অনস্বীকার্য সত্য আমাদের মেনে নিতেই হবে যে, বাঙালির সামষ্টিক জনজীবনে ধর্মভিত্তিক উৎসবগুলোই এখন পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ উদযাপনের স্থান দখল করে আছে। রাজনীতির কলুষতা সরিয়ে রাখলে দেখা যায়, ধর্মই আমাদের সামাজিক সম্প্রীতির অমোঘ বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু উৎসবের আমেজে গা ভাসালে চলবে না; সংকটের মূলে করাঘাত না করলে কিংবা অপ্রিয় সত্য উচ্চারণে কুণ্ঠাবোধ করলে ব্যাধির উপশম কখনোই সম্ভব নয়। বর্তমানে আমরা এক ধরনের বায়বীয় মূল্যবোধ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম আবরণে সত্যকে ঢেকে রাখছি। এই লুক্কায়িত সত্যের সন্ধান আজ যদি আমরা করতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে জাতিকে এর জন্য চরম চড়া মূল্য দিতে হবে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ঈদ উৎসব
- উৎসবের সময়