নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাতকে সুরক্ষা দিন

জাগো নিউজ ২৪ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩

দেশের মোট কর্মসংস্থানের বড় অংশ তৈরি করেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পো-উদ্যোক্তারা। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় এসএমই উদ্যোগই পরিবারে আয় আনে, বাজার সচল রাখে এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ায়। সহজভাবে বললে, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় এসএমই খাতকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই খাতটি আজ উচ্চ সুদের চাপে ন্যুব্জ। এমন বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশ পরিচালনায়। সরকারের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নিজে একজন সফল ব্যবসায়ী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা জাগে- তারা এসএমই খাতের যন্ত্রণা বুঝবেন। আমি একজন ক্ষুদ্র শিল্পো-উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এসএমই খাতে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হোক।


উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিগত কয়েক বছরে দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণের সুদহার বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণও কমে এসেছে। ফলে অর্থায়ন সংকটে পড়েছেন অনেক এসএমই উদ্যোক্তা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানও। অথচ দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই খাতে ৩ কোটির বেশি জনবল কাজ করছে। যা দেশের মোট শিল্প কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫%। দেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ৩০-৩২%। যা দারিদ্র্য বিমোচন ও সুষম উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।


বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যাংকগুলোতে এখন এসএমই ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। চড়া সুদ থাকায় এসএমই খাতে প্রসারতার গতি কমে এসেছে। অনেক ব্যাংক ইতোমধ্যে ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ২০২০ সালে এসএমইসহ সব ঋণে সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন মন্দা কাটাতে পাশাপাশি বিভিন্ন ঋণ প্যাকেজও দেওয়া হয়। ফলে এসএমই খাত অনেকটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে ২০২২ সালে সুদহার বাজারভিত্তিক করা ও ডলারের দাম বাড়ার কারণে ছোট উদ্যোক্তারাজ চাপে পড়েন। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে আর কোনো সহায়তাও দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ কমিয়ে দেয়।


এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, এসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ঋণের আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ও পরিধি দুটোই কম। শুধু তাই নয়, ব্যাংকের মোট ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ খাতে ঋণ রয়েছে ১৮ শতাংশের কম। এ খাতে ঋণ বাড়ার পরিবর্তে উল্টো কমে আসছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এ খাতের ঋণের ২৫ শতাংশের অর্ধেক দিতে হবে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে। মোট ঋণের মধ্যে উৎপাদনশীল শিল্পে অন্তত ৪০ শতাংশ, সেবায় ২৫ শতাংশ এবং বাকি ৩৫ শতাংশ ব্যবসা উপখাতে বিতরণ করতে হবে। নারী উদ্যোগে দিতে হবে অন্তত ১৫ শতাংশ। যদিও এ ক্ষেত্রেও উৎপাদন ও সেবার তুলনায় ব্যবসায় বেশি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখা যায়।


বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি- সব মিলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান কিছুটা সামাল দিতে পারলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পক্ষে উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। ব্যাংক ঋণের সুদ যদি ১২-১৪ শতাংশের ঘরে থাকে, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পণ্যের দাম বাড়ে এবং শেষপর্যন্ত ভোক্তাকেই বেশি মূল্য দিতে হয়। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হয়।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাজারে তারল্য ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিন্তু এসএমই খাতের জন্য আলাদা সহনশীল নীতি প্রয়োজন। উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পসুদে বিশেষ তহবিল থাকে। কারণ সরকার জানে- এসএমই টিকলে অর্থনীতি টিকবে। অর্থমন্ত্রী একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিশ্চয়ই জানেন, উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় ভয় হলো ‘ক্যাশ ফ্লো’। সময়মতো বিক্রি না হলে কিস্তি পরিশোধ করা যায় না। উচ্চ সুদের কারণে কিস্তির চাপ বাড়লে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একবার কোনো ছোট কারখানা বন্ধ হলে শুধু মালিক নয়, তার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক পরিবারও বিপদে পড়ে। এতে বেকারত্ব বাড়ে, সামাজিক অস্থিরতা বাড়ে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও