মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা

কালের কণ্ঠ ফারুক মেহেদী প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩

মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। সরাসরি এই তিন দেশ যুদ্ধ করলেও আক্রান্ত হয়েছে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, লেবাননও। এসব দেশের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোতে একের পর এক হামলা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের উৎস। বন্ধ রয়েছে দেশগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম। ব্যাহত হচ্ছে দেশে দেশে বিমান চলাচল। প্রবাসীরা কাজহীন অসহায় অবস্থায়।


এই সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক সীমায় আবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় এবং তেল শোধনাগারগুলোতে উপর্যুপরি হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত না হলে এটি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যার প্রভাব প্রতিটি খাতে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।


কী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে : চলমান এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে। এখানে জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে। তেলের এই অভাব সরাসরি পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।


এর ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।


জ্বালানিসংকটের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে দেশের কৃষি এবং শিল্প খাতেও। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলায় সেচকাজের জন্য ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা সময়মতো সেচ দিতে পারবেন কি না এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদি তা ব্যাহত হয়, তবে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে সার কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দেশে সারের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ না থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানির অভাবে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে শিল্প-কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে।


সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব। জ্বালানি তেল ঘিরে পুরো সরবরাহব্যবস্থায় খরচ বাড়লে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। এই প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নতুন করে এর মাত্রা বাড়লে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান আরো নিচে নেমে যাবে। উচ্চমূল্যের বাজারে টিকে থাকতে গিয়ে মানুষ তাদের সঞ্চয় হারানোসহ মৌলিক চাহিদাগুলো কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে। জ্বালানির এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছে, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হবে। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বাংলাদেশকে এক বহুমুখী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে খাদ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও