‘সিজনাল ফাটিগ’ শরীরে অদৃশ্য যুদ্ধ
শীতকাল শেষ, কোনো কারণ ছাড়াই শরীর ভারী লাগে, চোখ জুড়ে আসে, কাজে মন বসে না, অতিরিক্ত ঘুম পায়। সকালে বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না, দিনভর অলসতা ঘিরে থাকে- এই অবস্থাকে বলা হয় ‘সিজনাল ফাটিগ’ বা ঋতু পরিবর্তনের ক্লান্তি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিকত চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “শীতের শেষে শরীরকে নতুন ঋতুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সবচেয়ে বেশি চাপ পোহাতে হয়। কারণ, শীতকালে দিন ছোট, আলো ও তাপমাত্রা কম— এসব মিলে শরীরের জৈবিক ছন্দ বদলে যায়। বসন্তের দিকে আলো বাড়লে শরীর আবার সমন্বয় করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।”
ঘুমের ছন্দ ভেঙে যাওয়া: অতিরিক্ত ঘুমের ফাঁদ
শীতে গড়ে অন্য ঋতুর চেয়ে বেশি ঘুমানো হয়। দিন ছোট হওয়াতে শরীর বিশ্রামের সংকেত বেশি পাঠায়।
বসন্তে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় বদলে গেলে ঘুমের চক্র আবার ‘রিসেট’ হতে সময় নেয়।
ফলে রাতে ঘুম ভালো হলেও দিনে ঝিমুনি আসে, অতিরিক্ত ঘুম পায়। এই অসমতুল্যতাই ক্লান্তির মূল কারণ।
সার্কাডিয়ান রিদমের বিশৃঙ্খলা: শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি হারিয়ে যায়
শরীরের ভেতরে একটা জৈবিক ঘড়ি আছে— সার্কাডিয়ান রিদম। এটা ঘুম-জাগরণ, হরমোন নিঃসরণ, শক্তির মাত্রা-সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
শীতে দিনের আলো কম থাকায় এই ঘড়ি ধীর হয়ে যায়। মেলাটোনিন হরমোন (যা ঘুম আনে) বেশি উৎপন্ন হয়।
সেরোটোনিন (যা মেজাজ ভালো রাখে) কমে যায়।
বসন্তে হঠাৎ দিন লম্বা হয়ে গেলে শরীর মনে করে, ‘এখন তো ঘুমানোর সময় নয়!’ তবে অভ্যাস বদলাতে সময় লাগে।
ফলে মনোযোগ ছড়িয়ে যায়, কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়, সারাদিন ক্লান্তি ঘিরে থাকে।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- ঋতু পরিবর্তন
- ক্লান্তি অনুভব