শিশুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে যেভাবে

প্রথম আলো প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৭

বগুড়ার তরুণ কবি নিখিল নওশাদ ও সান্ত্বনা খাতুন দম্পতির কথা মনে আছে? ২০২২ সালে বিয়ের দেনমোহর হিসেবে টাকা বা সোনাদানা নয়, নিখিলকে দিতে হয়েছে ১০১টি বই। সে সময় ‘প্রিয় বই’য়ের একটি তালিকাও তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন হবু বধূ। সেই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন বইয়ের দোকান তন্ন তন্ন করে খুঁজে বই সংগ্রহ করেছিলেন নিখিল।


কাবিননামায় দেনমোহরের জায়গায় ১০১টি বই লিখতে অপারগতা জানিয়েছিলেন কাজি। পরে বইয়ের সংখ্যা উল্লেখ করে মূল্য বাবদ একটি অর্থ ধরা হয়। বইয়ের সংখ্যাসহ সেই অঙ্কের অর্থ কাবিননামায় দেনমোহর বাবদ লেখা হয়। এভাবে বিয়ের আনন্দ আয়োজনে স্বামীর কাছ থেকে অন্য কিছুর বদলে বই উপহার নিয়েছিলেন সান্ত্বনা খাতুন।


দেনমোহর হিসেবে না হলেও আগের যুগে বিয়েতে বই দেওয়ার চল ছিল। এমনকি হাল আমলে নিজের বিয়েতেও পেয়েছিলাম কমলকুমার মজুমদারের উপন্যাস সমগ্র। মনে পড়ে, মায়ের বইয়ের তাক ছিল না। ছিল কাপড়ের আলমারি।


ওই আলমারির এক কোণে সাজানো ছিল বেশ কয়েকটি বই। কাপড় বের করার ছলে বইগুলো নিতে চাইতাম। মা দিতেন না। ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে মা নিজেই সেখান থেকে একটি বই বের করে পড়তে দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল, বইয়ে কোনো দাগ কাটা যাবে না। পড়া শেষে বই আবার ওই আলমারিতে রাখতে হবে। কারণ, এসব মায়ের বিয়েতে পাওয়া উপহার।


সে সময় দুপুরে না ঘুমিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে শেষ করেছিলাম বিমল মিত্রের সাহেব


বিবি গোলাম। মায়ের আলমারির তাকে সাজানো বইয়ের মধ্যে আরও ছিল শংকরের চৌরঙ্গী ও আশাপূর্ণা দেবীর প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা আর বকুলকথা।


এই যে বিয়েতে মায়ের উপহার পাওয়া বই কত বছর পরে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই পাঠই তো আরও আরও পাঠের দিকে টেনে নিয়ে গেছে আমাকে। এরপর ধীরে ধীরে মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ, রাজু ও আগুনালির ভূত, বকুলাপ্পু; হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মাতাল হাওয়া ছাড়াও হিমু ও মিসির আলি সিরিজ; মাহমুদুল হকের কালো বরফ, জীবন আমার বোন ও প্রতিদিন একটি রুমাল; শহীদুল জহিরের মুখের দিকে দেখি; আনিসুল হকের মা, নিধুয়া পাথার, আয়েশামঙ্গল; জহির রায়হানের বরফ গলা নদী, হাজার বছর ধরেসহ আরও কত বই পড়েছি। মজার ব্যাপার হলো, এসব বইয়ের অনেকগুলোই কিন্তু উপহার পাওয়া। ঈদের সময় কাজিনরা নিয়ে আসত এসব উপহার। কিছু বইয়ের গল্প মনে আছে, এখন আর নাম মনে নেই।


মা যদি যত্ন করে তাঁর বিয়েতে উপহার পাওয়া বইগুলো সংগ্রহে না রাখতেন, তাহলে কি এই পাঠাভ্যাস গড়ে উঠত, দেখতে পারতাম এই অচেনা পৃথিবীর রূপ! কারণ, বই হলো এক আশ্চর্য দুরবিন। এই দুরবিনে চোখ রাখলে দেখা যায় অচেনা পৃথিবীর রূপ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও