You have reached your daily news limit

Please log in to continue


হানা স্পেনসার ও এক শিশুর কাছে অঙ্গীকার

“এখন, আমার গ্রাহকদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি—আপনারা যে কাজটি করানোর জন্য আমাকে বুক করেছিলেন, সেটি আমাকে বাতিল করতে হতে পারে; কারণ আমি সংসদে যাচ্ছি। সেখানে পৌঁছে আমি আমার মতো কাজ করা সবার জন্য জায়গা করে দেব। অবশেষে আমরাও সিদ্ধান্তের টেবিলে একটি আসন পাব।”

বিজয়ের রাতে এই কথাগুলো উচ্চারণ করেন ৩৪ বছর বয়সী এক প্লাম্বার—গ্যাস, লোহা ও প্লাস্টিকের পাইপ নিয়ে দিনযাপন করা এক কায়িক শ্রমজীবী নারী। ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্যের উপনির্বাচনে নর্থ ইংল্যান্ডের ডেন্টন-গর্টন আসন থেকে Green Party of England and Wales–এর প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে পঞ্চম সাংসদ হিসেবে তিনি ইতিহাসে নাম লেখান। লেবার-অধ্যুষিত অঞ্চলে এক শ্রমজীবী নারীর এই উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রাভিমুখে এক প্রান্তিক কণ্ঠের প্রবেশ।

লেবার-দুর্গে সবুজের উত্থান

ডেন্টন-গর্টন—উত্তর ইংল্যান্ডের লেবার-অধ্যুষিত এলাকা। বহু বছর ধরেই এখানে লেবারের জয়-জয়কার। মাত্র এক বছর আগে এই আসনে বিপুল ব্যবধানে জিতেছিলেন Andrew Gwynne। কিন্তু একটি হোয়াটসঅ্যাপ কেলেঙ্কারির জেরে পদত্যাগে বাধ্য হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। সেই সুযোগে হানা স্পেনসার কেবল ব্যবধান ঘোচাননি; বরং লেবারের প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৫,৬১৬ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

এই বিজয়ে কোনো চমকপ্রদ ব্যক্তিত্ব-নির্ভর প্রচারণা ছিল না, ছিল না সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। ছিল নিত্যদিনের প্রশ্ন—গ্যাসের বিল, বিদ্যুতের দাম, স্কুলের খরচ, চিকিৎসার প্রাপ্যতা, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা। দীর্ঘদিনের ‘লেবার বনাম টোরি’ দ্বৈরথের বাইরে গিয়ে ভোটাররা যেন বললেন—কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য চাই।

রিফর্ম ইউকের মতো জাতিবিদ্বেষী রাজনৈতিক শক্তিকেও এই আসনে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তবে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল । পরিচিত সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষক প্রার্থীকে হারিয়ে এক ‘নিবেদিতপ্রাণ প্লাম্বার’ সংসদে যাচ্ছেন—এই প্রতীকী ছবিটিই উপনির্বাচনের মূল বার্তা।

“আমার মুসলিম বন্ধু ও প্রতিবেশীরা আমার মতোই—মানুষ”

বিজয়ী ভাষণে হানা বারবার আবেগাপ্লুত হয়েছেন। বিশেষ করে রমজানের সময় স্থানীয় এক মসজিদে হামলার চেষ্টার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, লংজাইটের একটি মসজিদে নারীদের সঙ্গে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখন কাছেই কুঠার হাতে একজন ঢুকে পড়ে অন্য মসজিদে। বড় কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি—কিন্তু সম্ভাবনা যথেষ্ট ছিল শঙ্কার।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমাজের সব সমস্যার জন্য যে রাজনীতি বারবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বলির পাঁঠা বানায়, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলবেন। “আমার মুসলিম বন্ধু ও প্রতিবেশীরা আমার মতোই—মানুষ।” বিভাজনের বিরুদ্ধে এই মানবিক উচ্চারণ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন নয়; কিন্তু এক শ্রমজীবী নারীর কণ্ঠে তা নতুন শক্তি পায়।

“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি…”
হানার বক্তৃতার একটি অংশ শুনতে শুনতে মনে পড়ে যায় সুকান্ত ভট্টাচার্য–এর অমর উচ্চারণ—
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি,
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”

হানা হয়তো সুকান্তের নাম শোনেননি। কিন্তু তিনি দেখেছেন এক শিশুর চোখ। তাঁর নির্বাচনি প্রচারাভিযানে কোলে নিয়েছিলেন লেইলা নামের ছোট্ট এক মেয়েকে। বিজয়ী-বক্তৃতায় সেই শিশুটিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন—“তুমি যে পৃথিবীতে বড় হয়ে উঠছ, সেটিকে আরও ভালো করার চেষ্টা আমি করব। আমি নিখুঁত নই, কিন্তু সবসময় সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করি।”

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন