ভালোবাসা যখন বিষ হয়ে ওঠে, টক্সিক সম্পর্ক চেনার উপায়
প্রচলিত আছে ভালোবাসা দিয়ে নাকি পাথরেও ফুল ফোটানো যায়। ভালোবাসা মানুষের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় অনুভূতিগুলোর একটি। তবে কখনো কখনো কিছু সম্পর্ক এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে ভালোবাসা থাকে না; থাকে শুধু নীরব কষ্ট, অপমান, সন্দেহ আর মানসিক চাপ। তখন সেই প্রিয় অনুভূতি ভালোবাসা গলার কাঁটা হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি দেশের শোবিজ অঙ্গনে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্কের ভাঙন কতটা গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, অভিনেতা জাহের আলভী ও তার স্ত্রী ইকরার সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। পরকিয়ার অভিযোগ, বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক অস্থিরতা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নাকি ইকরাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন-এমন দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
টক্সিক সম্পর্ক আসলে কী?
টক্সিক সম্পর্ক মানে শুধু ঝগড়া বা মতভেদ নয়। মতবিরোধ যেকোনো সুস্থ সম্পর্কেই থাকে। কিন্তু যখন বারবার অপমান করা হয়, মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ভয়, অপরাধবোধ বা হীনমন্যতার মধ্যে রাখা হয়, নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতে হয় তখন সেটি টক্সিক সম্পর্কের লক্ষণ।
এ ধরনের সম্পর্কে একজন সঙ্গী ধীরে ধীরে আত্মসম্মান হারায়। নিজের ওপর আস্থা কমে যায়। সে ভাবতে শুরু করে ‘সমস্যাটা বোধহয় আমারই।’
টক্সিক সম্পর্কের প্রধান লক্ষণ
গ্যাসলাইটিং
গ্যাসলাইটিং হলো এমন এক মানসিক কৌশল, যেখানে আপনাকে আপনার নিজের অনুভূতি ও স্মৃতি নিয়ে সন্দেহে ফেলা হয়। যেমন- আপনি কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু সঙ্গী বলছে, ‘তুমি অযথা নাটক করছ।’ বারবার এমন হলে আপনি ভাবতে শুরু করবেন ‘আমি কি সত্যিই বাড়াবাড়ি করছি?’
নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা
কার সঙ্গে কথা বলবেন, কোথায় যাবেন, কী পরবেন, সামাজিক মাধ্যমে কী পোস্ট করবেন-এসব নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করলে তা ভালোবাসা নয়, আধিপত্য।
অবমূল্যায়ন
আপনার কাজ, সাফল্য, অনুভূতি সবকিছুকে ছোট করে দেখা। ‘তুমি কিছুই পারো না।’, ‘তুমি না থাকলে আমি অনেক ভালো থাকতাম।’- এই কথাগুলো ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসকে শেষ করে দেয়।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- সম্পর্কের টানাপোড়েন