ইতিহাসের সোনালি মুহূর্তটা নষ্ট হয়ে গেছে

www.ajkerpatrika.com আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ১৩:০১

আলতাফ পারভেজ লেখক ও গবেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনঃপাঠ’, ‘বার্মা: জাতিগত সংঘাতের সাত দশক’, ‘শ্রীলঙ্কার তামিল ইলম’, ‘গ্রামসি ও তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা’ প্রভৃতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বই। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই সনদ এবং নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।


দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ধরনের গুণগত পরিবর্তনের আশা করেন আপনি?


আলতাফ পারভেজ: তারেক রহমানের আসার আগেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু গুণগত এবং পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটে গেছে। আসলে, কোনো ব্যক্তির দেশে থাকা না-থাকায় তো সমাজ ও রাজনীতির পরিবর্তন থেমে থাকে না। দেশে না থাকলেও দল পরিচালনার মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের বিষয়ে অবহিত ছিলেন। তবে সে সময় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কেবল দলীয় কর্মী-সংগঠকদের তথ্য ও ব্যাখ্যা শুনেছেন। সমাজের ভেতরে থেকে সমাজকে বোঝা এবং বিদেশে বসে বোঝার চেষ্টার মাঝে গুণগত একটা ফারাক থাকে। এখন তাঁর সুযোগ রয়েছে দেশকে এবং ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া সামাজিক পরিবর্তনকে বোঝার।


আপনার মূল প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, তারেক রহমানের আগমন, নির্বাচন, বিএনপির বিজয় এবং তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া একদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির তেমন কোনো গুণগত পরিবর্তন নির্দেশ করে না, আবার করেও। যেমন, ১৯৯১ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি পরিবার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এখনো আমরা তার মধ্যেই আছি এবং সেটা অব্যাহত থাকার লক্ষণ আছে।

আবার এও সত্য, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি জিয়াউর রহমান কিংবা খালেদা জিয়াকে অল্পই ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ তারেক রহমান নিজের শক্তি ও চিন্তায় বিএনপির রাজনীতিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি সরকার গঠনের পর তাঁর চারপাশে মন্ত্রী ও উপদেষ্টার যে বলয় তিনি নির্মাণ করছেন, সেখানেও জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরাসরি সহযোগীদের উপস্থিতি কম। তারেক রহমান বিএনপিতে প্রজন্মান্তর ঘটাচ্ছেন। দলটিতে জেনারেশনাল একটা পরিবর্তন ঘটছে তাঁর মাধ্যমে।

একই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির পুরো পরিসরেও একটা প্রজন্মান্তর ঘটছে। সব দলে নতুন প্রজন্ম নেতৃত্বে আসছে—যে প্রজন্ম আবার নিজ রাজনৈতিক ভাবনাকে সুনির্দিষ্ট রূপ দিতে পারেনি এখনো, মাঠপর্যায়ে সংযোগের চেয়ে যারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে সামাজিক প্রভাব বাড়াতেই বেশি সময় দেয়। রাজনীতি, ক্ষমতা, নেতৃত্ব ইত্যাদি বিষয়ে তাদের বেশ আগ্রহী ও উৎসাহী মনে হচ্ছে। এদের মাধ্যমে রাজনীতির ধরনও পাল্টাচ্ছে। গভীর আদর্শবাদের চেয়ে পপুলিজম রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।


এর মাঝে মনে হচ্ছে উন্নয়ন প্রশ্নকে রাজনীতির প্রধান ইস্যু করে তুলতে চাইছেন তারেক রহমান। কিন্তু ঐতিহাসিক নানান বিবাদ এবং ধর্মীয় প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে এত বেশি যে তাকে পুরোপুরি উন্নয়নমুখী অ্যাজেন্ডার দিকে নেওয়া যাবে কি না বলা মুশকিল। আবার এখানে সমাজ পরতে পরতে এত বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত যে তাকে পরিশুদ্ধ করার মতো সংগঠক গোষ্ঠী বিএনপিতে আছে কি না সন্দেহ হয়। ফলে দেশে এখনই কোনো গুণগত পরিবর্তন আশা না করা ভালো হবে।


সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, বাংলাদেশ আপাতত একটা টানাপোড়েনের ভেতর দিয়ে যাবে—অন্তত আরও চার-পাঁচ বছর। ২০২৪-এ এখানে নতুন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটা এখনো তরল অবস্থাতেই আছে। তারেক রহমান তাতে দানা বাঁধাতে চাইছেন হয়তো, কিন্তু খুব অর্গানিক একদল সহযোগী তিনি পেলেন কি না—আমার সন্দেহ হচ্ছে।


আওয়ামী লীগবিহীন এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেল, তা কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ‘বাই-পোলার’ বা দ্বিমুখী ধারার সূচনা করল?


আলতাফ পারভেজ: আপাতত বাংলাদেশের রাজনীতিতে মধ্যপন্থা ও ডানপন্থার প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিএনপি পুরোনো মধ্য-ডান অবস্থান থেকে সরে মধ্যপন্থী অবস্থান নিচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মধ্যপন্থী প্রভাবশালীদের কাছে টানতে চাইছে।


অন্যদিকে, জামায়াতও পূর্বের অতি ডান অবস্থান থেকে কিছুটা সরে নমনীয় ডানপন্থী হিসেবে নতুন ইমেজ তৈরি করতে সচেষ্ট। এই দুই দলের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক এমন একটা মনোভঙ্গি তৈরি হয়েছে যে তারা এভাবে একটা দ্বিদলীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। তবে এ রকম অবস্থা স্থায়ী নাও হতে পারে। নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখুন, বিএনপি ও জামায়াত মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের মাত্র প্রতিনিধিত্ব করছে। বিগত নির্বাচন পুরোপুরি অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না। একটা বড় দল নির্বাচনের বাইরে পড়ে থাকায় রাজনীতির ভবিষ্যৎ চিত্রটা অস্পষ্টই থাকছে।


একাধিক কারণে বিএনপি বনাম জামায়াত বর্তমান দ্বিদলীয় ব্যবস্থা তৃতীয়-চতুর্থ শক্তির তরফ থেকে চ্যালেঞ্জে পড়বে। প্রথমত, আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই সক্রিয় হবে একসময়। নেতৃত্ব সংকটের কারণে আগের অবস্থান ফিরে না পেলেও তৃতীয় শক্তি হিসেবে তাদের উপস্থিতি ঘটবে। তবে সে জন্য তাদের পুরোনো ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।


অন্যদিকে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আদর্শিক লক্ষ্যে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ তরুণসমাজ ছোট ছোট নতুন দল করছে। এদেরও সম্ভাবনা আছে ধীরে ধীরে নতুন শক্তি হয়ে ওঠার। এই শক্তিসমূহ যেভাবেই হোক রাজনীতিতে একটা জায়গা পেতে মরিয়া। সেটা কী আকারে ঘটবে, তার রূপ দেখতে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপির প্রভাব কিছুটা কমতে থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে তাতে দলটির বর্তমান প্রভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হয় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও