রাজনীতিতেও রহমত নাজিল হোক
রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। এ মাসে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন যেমন পরিবর্তনের আহ্বান পায়, তেমনি রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষেত্রেও নৈতিকতার নতুন মানদণ্ড স্থাপনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। রমজান মাসে বাজারদর বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের সংকট বা কৃত্রিম মজুতদারি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ধর্মীয় আবহ যতই পবিত্র হোক, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হয় না। তাই সরকার যদি এ মাসেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নিুআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে এবং বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান চালায়, তাহলেই জনগণ সেটিকে বাস্তব রহমত হিসাবে অনুভব করবে। নচেৎ ‘রহমত’ শুধু রাজনৈতিক ভাষণের অলংকার হয়ে থাকবে।
প্রত্যাশার রাজনীতি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিশোধের সংস্কৃতি একটি বড় বাস্তবতা। ক্ষমতার পালাবদল মানেই প্রশাসনিক রদবদল, মামলা ও দমননীতি, এমন ধারণা বহুবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন সরকার যদি এ চক্র ভেঙে রাজনৈতিক সহনশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, বিরোধী দলের প্রতি সংলাপ ও সহাবস্থানের মনোভাব দেখায়, তাহলে সেটি হবে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা। কারণ রহমতের সরকার কখনো প্রতিহিংসার সরকার হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শক্তিশালী সরকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি শক্তিশালী বিরোধী দলও অপরিহার্য। সংসদকে কার্যকর করা, বিরোধী মতকে সম্মান করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, এসবই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানদণ্ড। যদি নতুন নেতৃত্ব এসব ক্ষেত্রে উদারতা দেখায়, তাহলে সেটিই হবে একটি বড় রাজনৈতিক সংস্কার।