রোজায় সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা রোজা পালন করছেন। এ সময় সুস্থতা, কর্মক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সেহরি ও ইফতারে সুষম খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পুষ্টিবিদরা। কানাডাভিত্তিক ডায়েটিশিয়ান ও দ্য হেলদি রামাদান গাইড-এর সহলেখক নাজিমা কুরেশি আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সহজ কিছু কৌশল অনুসরণ করলে দীর্ঘ সময় রোজা রেখেও সতেজ থাকা সম্ভব, এমনকি ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখেও।
কফি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে সতর্কতা
ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ে রমজানে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে বলে উল্লেখ করেন নাজিমা কুরেশি।
তিনি বলেন, কফি পান করতে চাইলে তা সেহরির একদম শেষ সময়ে সীমিত রাখা উচিত। ইফতারের পর বা সন্ধ্যায় কফি পান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরদিনের শক্তি কমিয়ে দেয়।
প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব খাবারে ক্যালরি বেশি থাকলেও পুষ্টিগুণ কম। ফলে বেশি খাওয়া হলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না।
তিনি বলেন, এতে ক্যালরি বেড়ে যায়, কিন্তু পুষ্টি বাড়ে না—ফলে রোজার সময় শক্তি কমে যায়।
সেহরি ও ইফতারে সুষমতার গুরুত্ব
সেহরিতে সাদা পাউরুটি বা অতিরিক্ত চিনি-সমৃদ্ধ সিরিয়ালের মতো সাধারণ কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন কুরেশি। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, ফলে দিনের মাঝামাঝি দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
তার বদলে তিনি পূর্ণ শস্যজাত খাবারের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত করার পরামর্শ দেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন—সবজি ও ডিমের সঙ্গে হোল-গ্রেইন টোস্ট, অথবা দই ও বেরির সঙ্গে ওটস ভালো বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি সেহরিতে ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিলিটার পানি পান করারও পরামর্শ দেন তিনি।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- রোজা
- সুস্থ থাকা