সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছরের সুদীর্ঘ লড়াইয়ের পর এ বিজয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে। স্বাভাবিকভাবেই একটি পোড় খাওয়া ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে জনসাধারণের প্রত্যাশার পারদ থাকবে অনেক উঁচুতে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে যে প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং দলের ইশতেহারে যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি হয়ে উঠবে। এ বিজয় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন আস্থা ও নতুন দায়িত্বের সূচনা।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক আস্থার নতুন করে গড়ে ওঠার মুহূর্ত। প্রতিটি নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে জাগে সম্ভাবনার নতুন স্বপ্ন, আবার জন্ম নেয় কিছু শঙ্কা ও প্রশ্নও। এ প্রত্যাশা ও সংশয়ের মধ্যবর্তী জায়গাটিই নির্ধারণ করে গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কতটা দৃঢ়, রাষ্ট্র কতটা জবাবদিহিমূলক এবং শাসনব্যবস্থা কতটা নাগরিকমুখী হতে পারবে।