এ নির্বাচনে সবাই জিতেছে
অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে, নির্বাচন হলো একটি, আর ভোট দুটি। একটি হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। অন্যটি ‘সংবিধান সংস্কার আদেশের’ ওপর গণভোট। গণভোটকে সরকারি পরিভাষায় বলা হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ (সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫)। সবকিছুই ঠিকঠাক মতোই সম্পন্ন হলো। ইন্টেরিম সরকারের প্রধান ড. ইউনূস বলেছেন, এ ভোট হবে বাংলাদেশের জনগণ এবং অন্যান্য দেশের কাছে একটি রোল মডেল। তিনি আরও বলেছেন, এ নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে।
আসলে হয়েছেও তাই। নির্বাচন সম্পর্কে আরও কিছু আলোচনার আগে সূচনা বক্তব্য হিসাবে দুটি কথা বলতেই হয়। সেটি হলো, ড. ইউনূস তার কথা রেখেছেন। আর দ্বিতীয়টি হলো, প্রথমে ৫ আগস্ট এবং তারপর নির্বাচনের আগের ১৮ মাস। এ ১৮ মাসে অনেক সুযোগ পাওয়ার পরও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ক্ষমতা দখল করেননি। বরং বিপ্লব-পরবর্তী অবস্থা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণতন্ত্রে উত্তরণ পর্যন্ত সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। ড. ইউনূস প্রথমে ক্ষমতা নিতে চাননি। ১/১১-এর সময়েও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ড. ইউনূসকে সরকারপ্রধান হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তখনো ড. ইউনূস বিনয়ের সঙ্গে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এবারও ছাত্রনেতারা যখন ফ্রান্সে তাকে প্রথম অনুরোধ করেন, তখন তিনি রাজি হননি। কিন্তু দ্বিতীয়বার অনুরোধ করলে তিনি বিবেকের তাড়নায় রাজি হয়েছেন। তার বিবেক তাকে বলছিল, ছাত্র-জনতা যদি শয়ে শয়ে জীবন দিতে পারে, হাজারে হাজারে আহত হতে পারে, তাহলে তিনি কেন সেই ছাত্রদের অনুরোধ রক্ষা করবেন না!