অ্যালার্মে ‘স্নুজ’ চাপা কি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে?
সকালে অ্যালার্ম বাজার পর হাত বাড়িয়ে ‘স্নুজ’ বাটন চাপা অনেকেরই অভ্যাস। ৫ মিনিট পর আবার অ্যালার্ম, আবার স্নুজ। এভাবে কয়েক দফা চলার পর অবশেষে বিছানা ছাড়েন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, এই অভ্যাস নাকি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
ঘুম পর্যবেক্ষণকারী জনপ্রিয় অ্যাপ স্লিপ সাইকেলের ২১ হাজার ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, স্নুজ করা অত্যন্ত সাধারণ একটি আচরণ। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনবার অ্যালার্ম পিছিয়ে দেন। অর্থাৎ, বেশির ভাগ মানুষই অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছাড়েন না।
পুরোনো ধারণা স্নুজ করলে আরইএম ঘুম নষ্ট হয়
চিকিৎসকদের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রচলিত সতর্কবার্তা ছিল, অ্যালার্ম বারবার পিছিয়ে দিলে ‘র্যাপিড আই মুভমেন্ট’ বা আরইএম ঘুম ব্যাহত হয়। এ সময় মস্তিষ্ক দিনের নানা অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা গুছিয়ে রাখে। আমরা যা শিখেছি বা অনুভব করেছি, সেগুলো ঠিকঠাকভাবে মনে রাখার কাজও তখন হয়। একই সঙ্গে মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম পেয়ে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত হয়। পুরোনো তত্ত্ব অনুযায়ী, অ্যালার্ম বারবার বাজলে ঘুম কয়েকবার ভেঙে যায়। এতে ঘুম গভীর হয় না, ফলে সকালে আরও ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অনেকেই মনে করতেন, অ্যালার্ম পিছিয়ে দেওয়া মানেই ‘অর্ধেক জাগা, অর্ধেক ঘুম’, যা মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
নতুন গবেষণার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী ডা. ক্যাথি গোল্ডস্টেইনের নেতৃত্বে করা সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, সকালে কয়েক মিনিট আরইএম ঘুম কম হলে তা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় গুরুতর ক্ষতি করে এমন শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্মের পর কয়েক মিনিট বিছানায় শুয়ে থাকা শরীর ও মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে জাগ্রত অবস্থায় যেতে সাহায্য করে। একে বলা হয় ‘স্লিপ ইনর্শিয়া’ বা ঘুম ভাঙার পরের ঝিমুনি। হঠাৎ উঠে পড়লে যে ধাক্কা লাগে, স্নুজ সে ধাক্কা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ পরিমিত স্নুজ হয়তো শরীরের জন্য হালকা ট্রানজিশন হিসেবে কাজ করতে পারে।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- মানসিক স্বাস্থ্য