নবীজির (সা.) উপমায় প্রাণ ও প্রকৃতি: ৩

প্রথম আলো প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৬

সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দিতে গিয়ে নবীজি (সা.) প্রায়ই প্রাণ ও প্রকৃতির পরিচিত ছবি টেনে আনতেন। কখনো প্রাণীর আচরণ, কখনো ফলের স্বাদ, আবার কখনো নদী ও সমুদ্রকে উপমা বানাতেন।


এসব উপমা থেকে তার প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য ও গভীর পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই নিবন্ধে আমরা এমনই কিছু উপমা হাজির করছি:
আগুন ও পতঙ্গ 
একদিন নবীজি (সা.) সাহাবাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার এবং মানুষের উদাহরণ ঠিক সেই ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালাল, এরপর যখন চারদিক আলোকিত হয়ে গেল, তখন পতঙ্গ ও আগুনে আকৃষ্ট পোকাগুলো তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল।


লোকটি তখন সেগুলোকে আগুন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু তারা লোকটিকে পরাজিত করে আগুনেই ঝাঁপিয়ে পড়ল। (তেমনইভাবে) আমি তোমাদের কোমর ধরে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য টেনে ধরছি, অথচ তোমরা তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬,৪৮৩)


এই হাদিসে মূল উপমান হলো আগুনে আকৃষ্ট পোকা। এই পোকা দিয়ে উদ্দেশ্য হলো অবিবেচক মানুষ। নবীজি (সা.) নিজের ভূমিকা এভাবেই ব্যক্ত করেছেন যে আমার কাজ হলো মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো, যদিও মানুষ সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়তে পাগলপারা।
ঘোড়া
নবীজি (সা.) বলেন, ‘মুমিন এবং ইমানের উদাহরণ হলো সেই ঘোড়ার মতো, যাকে একটি খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘোড়াটি আশপাশে ঘোরাঘুরি করে ঠিকই, কিন্তু শেষমেশ সে তার সেই খুঁটির কাছেই ফিরে আসে।


মুমিন ব্যক্তিও ঠিক তেমনই (মাঝেমধ্যে) অমনোযোগী হয়ে পড়ে, কিন্তু আবার সে ইমানের কাছেই ফিরে আসে। সুতরাং তোমরা তোমাদের খাবার থেকে পরহেজগারদের খাওয়াও এবং তোমাদের সৎকর্ম মুমিনদের দিকে ফেরাও।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩,৮৩৭; শুআবুল ইমান, বায়হাকি, হাদিস: ১০,৪৬০)


এখানে বোঝানো হয়েছে, মুমিন ব্যক্তি গোনাহ করতেই পারে, কিন্তু এরপরও সে তওবা করে ফিরে আসে। তার ইমান তাকে তওবা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না।


লেবু ও খেজুর
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে মুমিন কোরআন পাঠ করে, তার উদাহরণ হলো উতরুজ্জাহ (লেবু–জাতীয় সুগন্ধি ফল)-এর মতো; যার স্বাদ মজাদার আর ঘ্রাণও চমৎকার। আর যে মুমিন কোরআন পাঠ করে না, তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো; যার স্বাদ তো মিষ্টি কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই।


অন্যদিকে যে পাপাচারী কোরআন পাঠ করে, তার উদাহরণ হলো রায়হানা (তুলসী–জাতীয় ফুল)–এর মতো; যার ঘ্রাণ তো চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে পাপাচারী কোরআন পাঠ করে না, তার উদাহরণ হলো হানজালা (মাকাল ফল)–এর মতো; যার স্বাদও তিক্ত আর কোনো ঘ্রাণও নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫,০২০)
গরু
নবীজি (সা.) বলেন, ‘অচিরেই এমন এক জাতির আবির্ভাব ঘটবে, যারা তাদের জিহ্বা দিয়ে এমনভাবে (দুনিয়ার ধনদৌলত) ভক্ষণ করবে, যেভাবে গরু তার জিহ্বা দিয়ে মাটি থেকে ঘাস খায়।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১,৫১৭)


একেই বাংলা বাগ্‌ধারায় ‘গোগ্রাসে খাওয়া’ বলে। নবীজি (সা.) এখানে এটাই উদ্দেশ্য করেছেন।
নদী
একদিন নবীজি (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, ‘বলো তো যদি তোমাদের কারও বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে?’


তারা (সাহাবিরা) বললেন, ‘না, তার শরীরে কোনো ময়লাই বাকি থাকবে না।’


আল্লাহর রসুল (সা.) বললেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ ঠিক তেমনই; এর মাধ্যমেই আল্লাহ (বান্দার) গোনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৮)

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও