You have reached your daily news limit

Please log in to continue


নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জাতীয় ঐক্য

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংসদীয় আসনে জয়ী হয়ে নতুন সমীকরণ গড়েছে, নির্বাচনে এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেনশিপ পার্টি) কয়েকজন তরুণ প্রতিনিধির জয়লাভ নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়; এটি একটি শক্তিশালী গণম্যান্ডেট, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাধারণ বিষয় নয়। এমন ম্যান্ডেট সরকারকে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, নীতি–স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রগঠনের সুযোগ দেয়। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ।

২.

একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট একই সঙ্গে একটি বৃহত্তর দায়িত্ব। এখন প্রশ্ন, রাষ্ট্র–রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার নয়, দৃষ্টান্ত স্থাপনের। প্রশ্ন হলো, এই ম্যান্ডেট কি কেবল ক্ষমতা সুসংহত করার হাতিয়ার হবে নাকি এটি বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে?

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতৃত্বকে ক্ষমতা দেয়; কিন্তু বৈধতা আসে তখনই, যখন বিরোধী শক্তি অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষ থাকে। তাই এই নির্বাচন ও এর ফলাফলকে বোঝার মূল চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্যকে কাঠামোগত অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সংসদীয় ও সংসদ-বহির্ভূত সব রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার হয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত থাকে বিরোধী দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে। বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংসদকে কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করেছে; তবে সেই কার্যকারিতা কেবল তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেনশিপ পার্টি এবং অন্যান্য বিরোধী শক্তি সংসদীয় বিতর্ক ও নীতি প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।

মতভেদ থাকবেই, কিন্তু ন্যায্য নিয়মে পরিচালিত হলে তা নতুন নীতি ও জনস্বার্থে কার্যকর সমাধান আনে। এভাবেই সংসদ বিভাজনের বদলে ঐক্যের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

জাতীয় ঐক্য সংসদের বাইরেও দরকার। সমাজে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের বাইরে রাখা সংস্কারকে দুর্বল করবে এবং জনগণের বড় অংশকে প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তাই অন্তর্ভুক্তি মানে শুধু সংসদীয় বিরোধী দল নয়; বরং সংসদ-বহির্ভূত শক্তিগুলোকেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশীদার করা।

৩.

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, মেরুকরণ ও সহিংস প্রতিযোগিতা কেবল ক্ষমতার পালাবদল ঘটায় না, এটি প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ক্ষয় করে। ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, পক্ষপাতমূলক আইন প্রয়োগের অভিযোগ এবং আনুগত্যভিত্তিক অর্থনৈতিক বণ্টন রাষ্ট্রকে দলীয় কাঠামোতে পরিণত করেছে।

ফলে নাগরিকদের চোখে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষতার মর্যাদা হারিয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামো টিকে থাকলেও তার বৈধতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও সংঘর্ষ একটি পুনরাবৃত্ত বাস্তবতা, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতা কমিয়ে আনা এবং মেরুকরণ প্রতিহত করা না হলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। তাই সংলাপ, অন্তর্ভুক্তি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি—যাতে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সংকট আসলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়; মূল সমস্যা হলো বিভাজনকে স্থায়ী রূপ দেওয়া। জাতীয় পরিচয়কে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, বরং বিভাজনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—বন্ধু বনাম শত্রুতে ভাগ করে সমাজে অবিশ্বাস গভীর করা হয়েছে।

এই প্রবণতা সমাজে অবিশ্বাস, বিরূপতা ও অবমাননা বাড়িয়েছে। শুধু রাজনৈতিক পরিবেশ নয়, সামাজিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও এভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখন সময় এসেছে এই বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসার। রাজনীতিকে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে রাখতে হবে, যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু তা শত্রুতায় রূপ নেবে না। অন্তর্ভুক্তি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মানই পারে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন