পরিকল্পনা-টেন্ডার ছাড়াই বন্দরের জমি ২০ বছরের ইজারা
বন্দরের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ছিল না। ছিল না কোনো আলোচনায়। তবুও নতুন আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য ১০ দশমিক ৬৬ একর জমি ইজারা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৬৬ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই।
এই ইজারার প্রথম দুই বছর দেওয়া হয়েছে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে রেয়াতি সুবিধা। জায়গাটি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্দরের সম্ভাব্য সংকটকেও আমলে নেওয়া হয়নি। জায়গা বরাদ্দ পেলেও ইজারাগ্রহীতা ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি এখনো কাজ শুরু করেনি। অভিযোগ উঠেছে- বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে বন্দরের ভবিষ্যৎ হুমকিও বিবেচনায় না রেখে টেন্ডার ছাড়া উল্টো ভাড়া রেয়াতি সুবিধায় জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দুই বছরের ভাড়া রেয়াতি সুবিধা দিয়ে ২০ বছরের জন্য জায়গা ইজারা দেওয়া হলেও বন্দরের প্রস্তাবিত কোনো পরিকল্পনাতেই এই টার্মিনালের তথ্য ছিল না। এক্ষেত্রে বন্দরের আইন কর্মকর্তার মতামতও নেওয়া হয়নি। দুটি জমি একত্রে টেন্ডার ডাকা হলে, আরও বড় বিনিয়োগকারী পাওয়া যেত। আয়ও হতো বেশি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ নিজেদের পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত (নম্বর-১৯৩৮৫) মোতাবেক ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৭ একর জমি ইজারা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডাকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য কর্ণফুলী নদীর ভাটির দিকে সাগর মোহনার কাছের জমিটি বার্ষিক ১৫ কোটি টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমিটিতে নদীর মুখ রয়েছে ১৬৫ দশমিক ২০ মিটার। জায়গাটিতে নতুন একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করবেন ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান। যাতে বছরে প্রায় চার লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হবে।