তুরস্ককে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতির নীরব টানাপোড়েন

প্রথম আলো আসিফ বিন আলী প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৫

বাংলাদেশে যখন বড় পরিসরে মুসলিম বিশ্ব নিয়ে কথা হয়, তুরস্কের নামটা সব সময় আলাদা করে উঠে আসে। তুরস্ক শুধুই আরেকটা ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ নয়; আমাদের ইতিহাসের বইপত্র, ধর্মীয় স্মৃতি, জনপ্রিয় সংস্কৃতি আর এখন ক্রমে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনার ভেতরও সেটি একধরনের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র’ হিসেবে থাকে। তাই সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে তুরস্ককে যেভাবে টানা হচ্ছে, সেটি নিয়ে ঢাকা ও আঙ্কারা দুই পক্ষেরই একটু ভেবে দেখা দরকার।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়। এই ভোটের মধ্য দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার কথা।


মানুষ চায়, বিশ্বাসযোগ্য ভোটের মাধ্যমে একটি বৈধ সরকার। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এ নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছে। ফলে মূল লড়াইটা দাঁড়িয়েছে—একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী জোট, যেখানে দু–একটি ইসলামি দলও আছে; অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও বিভিন্ন ইসলামি দল নিয়ে গড়া ইসলামি জোটের মধ্যে, যেখানে মধ্যপন্থী দলও আছে। ২০২৪ সালের শেষ আর ২০২৫ সালে করা বিভিন্ন জরিপের ইঙ্গিতও—সম্ভাব্য আসনে বিএনপি জোট এগিয়ে; কিন্তু ইসলামি শিবিরও ধারাবাহিকভাবে শক্তি বাড়াচ্ছে।


বাংলাদেশের রাজনীতি ৫৪ বছর ধরে মূলত তিনটি শিবিরকে ঘিরে ঘুরছে—বাঙালি জাতীয়তাবাদী শিবির, যার ঐতিহাসিক বাহক আওয়ামী লীগ; মধ্যপন্থী বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শিবির, যার প্রতিনিধিত্ব করে বিএনপি; আর ইসলামপন্থী শিবির, যেখানে জামায়াত ও অন্য ইসলামি দলগুলো। মতাদর্শ, ইতিহাস আর জাতীয়তাবাদের ধরন, এসব ক্ষেত্রে পার্থক্য স্পষ্ট; কিন্তু একটি জায়গায় তিন শিবিরেরই অভ্যাস প্রায় এক—পররাষ্ট্র সম্পর্ককে ঘরোয়া রাজনীতির কাজে লাগানো।


বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নকে ব্যবহার করেছে নিজেদের সমর্থকগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট রাখতে এবং সমালোচকদের কোণঠাসা করতে। অন্যদিকে ইসলামি দলগুলো ক্রমেই বেশি করে তুলে ধরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা, যেন বোঝানো যায় ‘ভ্রাতৃরাষ্ট্রগুলো’ তাদের পেছনে আছে। ফলে পররাষ্ট্রনীতি পরিণত হচ্ছে প্রচারের ভাষায়, পোস্টার-ব্যানারের স্লোগানে।


স্বল্প মেয়াদে এটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে। দলগুলো সহজেই সমর্থকদের বলতে পারে, ‘দেখুন, আমরা একা নই, আমাদের পাশে বড় বড় বন্ধুরাষ্ট্র আছে।’ কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এর বিপদ মারাত্মক। এতে একদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ক জটিল হয়; অন্যদিকে সেই বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর নামও ধীরে ধীরে বিতর্কিত হয়ে ওঠে।


ভারতের উদাহরণটা খুবই পরিষ্কার। দেশের ভেতর দলীয় প্রতীক হিসেবে ভারতের নামকে বারবার ব্যবহার করার ফলে সমাজের একটি বড় অংশে শক্ত ভারতবিরোধিতা মনোভাবও তৈরি হয়েছে। এখন বাণিজ্য, পানি ভাগাভাগি বা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সহযোগিতা করতে গেলেই সেই মনোভাব দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। আজকের আশঙ্কা, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল তুরস্কসহ অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাম নিয়েও একই পথ ধরতে চাইবে কি না।


তুরস্কের অবস্থান কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মনে কোনো আঞ্চলিক ‘বড় ভাই’ রাষ্ট্রের মতো নয়। ভৌগোলিক দূরত্ব আছে, আবেগের দূরত্ব নেই। খেলাফত তুলে দেওয়ার প্রশ্নে যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য অটোমান তুরস্ককে অপমান করছিল, তখনই বাংলার মুসলমানরা খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছিল। তারা তখন ব্রিটিশের প্রজা; কিন্তু হৃদয় ছিল ইস্তাম্বুলের পক্ষে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও