খাবারেই লুকিয়ে আছে কিডনি সুরক্ষার চাবিকাঠি
শরীরের ভেতরে নীরবে কাজ করে যাওয়া অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনি অন্যতম। রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে শরীরের বর্জ্য অপসারণ ও তরল ভারসাম্য রক্ষা সব দায়িত্বই কাঁধে নেয় এই অঙ্গটি। কিন্তু অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত লবণ-চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের অভ্যাসে কিডনির ওপর বাড়ছে অদৃশ্য চাপ।
অনেকেই মনে করেন শুধু বেশি পানি খেলেই কিডনি সুস্থ থাকে, অথচ বাস্তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই কিডনি সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিনের পাতে রাখা কিছু সাধারণ কিন্তু পুষ্টিকর খাবারই পারে কিডনিকে দীর্ঘদিন কার্যক্ষম ও সুস্থ রাখতে।
ফুলকপি ও পেঁয়াজ
কিডনি থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে ফুলকপি অত্যন্ত কার্যকর। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফোলেট ও পর্যাপ্ত আঁশ, যা শরীরের প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। অন্যদিকে, কম পটাশিয়ামযুক্ত সবজি হিসেবে পেঁয়াজ কিডনির রোগীদের জন্য নিরাপদ একটি বিকল্প। পেঁয়াজে থাকা কোয়ারসেটিন ও অ্যাসিলিন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির ওপর চাপ কমায় এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
আপেল ও তরমুজ
কিডনির সুস্থতায় ফলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তরমুজ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং দ্রুত বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। আপেলও কম উপকারী নয় এর উচ্চ ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভেষজ পানীয়
রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদ্যন্ত্রের পাশাপাশি কিডনির সুরক্ষাতেও কাজ করে। আর গ্রিন টি যা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য খান, আসলে এটি কিডনির জন্যও এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।