উৎসবের ভোটে মব আতঙ্ক

জাগো নিউজ ২৪ প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৪

যেকোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পরবর্তী সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চ্যালেঞ্জিং। গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ এক জটিল উত্তরণকালীন সময় পার করছে, যেখানে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে এক গভীরতর ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার ভারসাম্যহীনতাকে কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য একটি পদ্ধতিগত ঝুঁকি তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের আলোকে বলা যায়, এই ক্রান্তিকালে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত করা এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।


টিআইবি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতার মূলে রয়েছে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের সংস্কারবিরোধী অবস্থান। রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরে এখনো সেই সব শক্তির অস্তিত্ব বিদ্যমান যারা কর্তৃত্ববাদের অবশিষ্টাংশ হিসেবে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিকে যথাযথভাবে 'ব্যবচ্ছেদ' করলে দেখা যায়, জননিরাপত্তার অভাব এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা ভোটারদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা কেবল কমিশনের ওপর নির্ভর করে না, বরং উত্তরণকালীন সরকারের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর এর বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সংস্কারের ধীরগতি সরাসরি নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।


মব ভায়োলেন্স বা জনরোষের সহিংসতাকে কেবল বিচ্ছিন্ন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে না দেখে একে একটি পদ্ধতিগত ও কৌশলগত হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বা আইনি শাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন এই মব সংস্কৃতি রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। টিআইবি-র বিশ্লেষণ অনুসারে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মব সহিংসতার ‘উৎস’ ছিল খোদ প্রশাসনিক কেন্দ্র বা সচিবালয়। প্রশাসনের ভেতরে শুরু হওয়া এই বিশৃঙ্খলা পরবর্তীতে বাইরের বিভিন্ন উগ্র ও অসংগঠিত শক্তিকে ক্ষমতায়িত করেছে। সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থানে মব সৃষ্টির সুযোগ দিয়ে সরকার তার নিজস্ব ‘নৈতিক ভিত্তি’ মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের একক ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও