এমনও হতে পারে, বুকে একজনের প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে আরেকজনকে ভোট দিয়ে আসবে
পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে শাখারিয়া হয়ে আমতলী, বরগুনা সদর পেরিয়ে পাথরঘাটায় পৌঁছাই আমরা। বলেশ্বর নদের একেবারে শেষ প্রান্তে, বাগেরহাটের শরণখোলা সীমান্তঘেঁষা এই পাথরঘাটা বরগুনার অন্যতম প্রত্যন্ত এলাকা। ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে এখানে প্রাণ হারান ৬৩ জন মানুষ।
দীর্ঘ এই যাত্রাপথে গলাচিপা নদী, পায়রা নদী ও বিশখালী নদী পার হতে হয়েছে ট্রলারে। প্রায় ৭০ কিলোমিটারের পথ। এই পথ পাড়ি দিতে দিতে বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী হালচাল বোঝার চেষ্টা করেছি। পথে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। অন্তত ২৭ জনের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্যের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা ও অতীত অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি।
নদী ও সমুদ্র ঘেরা বরগুনা জেলার বড় একটি অংশের মানুষের জীবিকা মৎস্যনির্ভর। উপকূলীয় এই জেলার চারটি উপজেলায় যেতে এখনো নদীপথের কোনো বিকল্প নেই। বরিশাল যেতে হলেও সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। অনেক এলাকায় এখনো সুপেয় পানির সংকট প্রকট। তবু পর্যটনের বিকাশসহ সম্ভাবনাও কম নয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতিতে সরকার বদলালেও মানুষের জীবনমান বদলায়নি।