ব্যাহত শিল্প-উৎপাদন, কমছে রপ্তানি আয় সংকটে অর্থনীতি

জাগো নিউজ ২৪ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৪

অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য এবং ডলার সংকটসহ নানান কারণে বাংলাদেশ এক গভীর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালিতে তীব্র গ্যাস ও এলপিজি সংকট সৃষ্টি করেছে। এই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। সহজ করে বললে, দেশ বর্তমানে যে গভীর জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়- এটি এখন বাস্তব ও বহুমাত্রিক সংকট। সরকার একসময় বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত কিংবা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্বনির্ভরতার গল্প শোনালেও বাস্তব চিত্র আজ তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট। অথচ সর্বোচ্চ চাহিদার সময়েও গড়ে ১৪- ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।


কাগজে-কলমে সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এই বৈপরীত্যই বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার প্রমাণ। এই সংকটের মূল কেন্দ্রে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ গ্যাসনির্ভর। অথচ গ্যাসের দৈনিক চাহিদা যেখানে প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি), সেখানে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২৭০০- ২৮০০ এমএমসিএফডি-তে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প ও গৃহস্থালি সবখানেই।


দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন ক্রমেই কমছে। ২০১০ সালে যেখানে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি-এর নিচে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এই পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। বিকল্প হিসেবে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হলেও সেটি ব্যয়বহুল এবং বৈদেশিক মুদ্রানির্ভর। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ বছরে গড়ে ৮-৯ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার পেছনে ব্যয় হয় ৫-৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার- আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে। ডলার সংকটের সময়ে এই ব্যয় সরকারকে চরম চাপে ফেলেছে। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত পরিমাণ এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে।


জানা গেছে, দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫৮ কোটি ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহে বর্তমানে ঘাটতি থাকছে দৈনিক ১২২ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে বর্তমানে যে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে তা গত বছরের এ সময়ের (১০ জানুয়ারি, ২০২৫) তুলনায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট কম। ওই সময়ে দেশে গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৭৫ কোটি ঘনফুট। দেশে গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত পাঁচ কোম্পানির চারটির উৎপাদন গত এক বছরে হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের এ ঘাটতি মেটাতে বিকল্প সমাধান হিসেবে বিপুল অর্থে কেনা হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও অন্তত সাড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকার ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু সেখানেও রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার নিয়ে পরাশক্তিগুলোর কৌশলে আটকে গেলে আগামীতে গভীর জ্বালানি সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজার থেকে পণ্যটি আমদানিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনের বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশে।


এই জ্বালানি সংকট কেবল বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। বলতে দ্বিধা নেই, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শক্তি নিরাপত্তা যেখানে হওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, সেখানে পরিকল্পনাহীনতা, আমদানি নির্ভরতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে জ্বালানি খাত আজ সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে।


এই কিছুদিন আগের কথা, হঠাৎ করেই বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে এলপিজি। সারা দেশে এই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সরকার নির্ধারিত দামে যেখানে একটি ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য প্রায় ১২০০ টাকা, সেখানে বাস্তব বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায়- কোথাও কোথাও আরও বেশি। পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে এলপিজি বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করছে কিছু আমদানিকারক ও পরিবেশক গোষ্ঠী। শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়ে- এটি জানা কথা। কিন্তু চাহিদা বাড়লেই দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার বিক্রি হবে, এমন কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে পরিষ্কারভাবে নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ও দুর্বল নজরদারির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। রান্নার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে। সরকারের কঠোর নজরদারিতে যে অবস্থার শতভাগ পরিবর্তন হয়েছে তাও বলা যাবে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও