গুজব প্রতিরোধে ডিজিটাল নাগরিক

জাগো নিউজ ২৪ ড. মো. ফখরুল ইসলাম প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৯

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে আমাদের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি সমাজে এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে তা হচ্ছে গুজব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এখন যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। ফলে গুজব আর নিছক ভুল তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় গুজব প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতন ডিজিটাল নাগরিক।


গুজব ছড়ানোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের অসচেতনতা ও আবেগপ্রবণতা। কোনো তথ্য চমকপ্রদ, ভয়াবহ বা আবেগী হলে আমরা যাচাই না করেই তা শেয়ার করে দিই। অনেক সময় মনে হয়, আমি তো শুধু শেয়ার করলাম, ক্ষতি কী? কিন্তু বাস্তবে এই একটি শেয়ারই গুজবকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। তাই ডিজিটাল নাগরিকত্ব মানে কেবল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানা সেটা নয় বরং দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং অনলাইন নৈতিকতা চর্চা করা।


একজন দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক জানেন, সব খবর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি তথ্যের উৎস খোঁজেন, মূল সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে মিলিয়ে দেখেন এবং সন্দেহজনক হলে শেয়ার থেকে বিরত থাকেন। ছবি বা ভিডিও দেখলেই তিনি ধরে নেন না যে সেটি সত্য; বরং প্রেক্ষাপট, সময় ও স্থান যাচাই করেন। এই সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিই গুজব প্রতিরোধের প্রথম প্রতিরক্ষা।


গুজবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সামাজিক সম্প্রীতির ওপর। ধর্ম, রাজনীতি বা জাতিগত পরিচয়কে ঘিরে ছড়ানো ভুয়া তথ্য মুহূর্তেই উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, একটি মিথ্যা পোস্ট বা বিকৃত স্ক্রিনশট থেকে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে গুজব প্রতিরোধ কেবল ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়; এটি সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব।


শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল ও মিডিয়া লিটারেসিকে গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে কীভাবে ভুয়া খবর শনাক্ত করতে হয়, কীভাবে ফ্যাক্ট-চেকিং টুল ব্যবহার করা যায় এবং কেন অনলাইনে নৈতিক আচরণ জরুরি। একই সঙ্গে পরিবারে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা: কী শেয়ার করা উচিত, কী নয় এবং কেন নয়। সচেতনতা যদি ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হয়ে উঠবে।


রাষ্ট্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও অপসারণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে, একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, গুজববিরোধী উদ্যোগ যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব না করে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান।


গুজব শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে। যখন মানুষ বারবার ভুয়া তথ্যের মুখোমুখি হয়, তখন সত্যকেও সন্দেহের চোখে দেখে। এই অবস্থা গণতন্ত্র, সামাজিক ঐক্য ও উন্নয়নের পথে বড় বাধা। তাই গুজব প্রতিরোধ মানে সত্যকে রক্ষা করা, সমাজের আস্থা টিকিয়ে রাখা।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও