বেহাল উচ্চশিক্ষার হাল ধরবে কে

প্রথম আলো সৌমিত জয়দ্বীপ প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশ আবার নির্বাচনী ট্রেনে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় চলছে প্রতিশ্রুতি আর বয়ান-পুনর্বয়ানের প্রতিযোগিতা; কিন্তু একটি জায়গায় যুযুধান দুই বড় জোটের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বেশ ‘বড় ঐক্য’ দেখা যাচ্ছে।


শিক্ষা, বিশেষত ও উচ্চশিক্ষার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অথচ বেহাল বিষয়কে সুস্থির করার মহাপরিকল্পনায় অন্তর্বর্তী সরকারের মতোই তারা নিশ্চুপ। বিচ্ছিন্নভাবে এই এলাকায় কলেজ, ওই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন অনেকে; কিন্তু শিক্ষা প্রশ্নে জাতীয় নীতিমালা নিয়ে আলোচনা নেই।


নতুন সরকার যারাই গঠন করুক; কিংবা যে কাঠামোতেই গঠিত হোক, তাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চশিক্ষার বেহাল অস্থিতিশীলতাকে মোকাবিলা করা। এমনিতেই উচ্চশিক্ষা নিয়ে বৈশ্বিক টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে, বাংলাদেশিদের জন্য দ্বার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে সেটি সামলানো প্রয়োজন। তবে তার আগে নতুন সরকারের অনিবার্য দায়িত্ব হবে ঘরোয়া পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার কাঠামোগত সংকটগুলো নিয়ে বিস্তারিত ভাবা এবং ‘উচ্চশিক্ষা কমিশনের’ গতিমুখ উন্মোচন করা।


বাজারের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সম্পর্ক নির্ধারণ


মারাত্মক বাজারকেন্দ্রিকতা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় সমস্যা। আদতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাটাই জ্ঞানভিত্তিক না হয়ে অতিরিক্ত কর্মকেন্দ্রিক; দুনিয়াব্যাপীই তাই। আগে ছিল ‘ছাত্রনং অধ্যয়নং তপোঃ’, এখন হয়েছে ‘ছাত্রনং কর্মনং তপোঃ’! মানে শিক্ষার সঙ্গে বৈষয়িকতার সংযোগ নিবিড় হয়ে গেছে। ঔপনিবেশিক শাসনের করাতকলে শিক্ষার এই বৈষয়িক ব্যবস্থাপনার শুরু। উত্তরোত্তর সেটি বেড়েছে এবং আজ প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। বিদ্যার্জনের মান যেমনই হোক, ভালো গ্রেড ও সনদই শেষ কথা। শিক্ষায় এ জন্য ঢুকে গেছে অতিরিক্ত বাণিজ্যমনস্কতা—সারা বিশ্বেই।


অবশ্য বাংলাদেশের মতো জনশক্তির অপব্যয়ের উদাহরণ বিশ্বব্যাপী খুবই কম। এ দেশে উচ্চশিক্ষার কোনো গবেষণামুখী গন্তব্য ও উদ্দেশ্য নেই। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য বরং ভালো চাকরি করা হওয়ায়, পঠিত ডিসিপ্লিনের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক কম। সাহিত্য পড়ে তাই এ দেশে ব্যাংকার হওয়া যায়। আর জনপ্রশাসনমুখী চাকরির কথা বাদই দিলাম। এই একটি চাকরি বা সোনার ডিমপাড়া হাঁস, যার জন্য চিকিৎসা বা প্রকৌশলের গ্র্যাজুয়েটরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। পাঠ্যসূচির পড়ালেখা বা সহপাঠ্যক্রমের বনিয়াদি জ্ঞানান্বেষণ বাদ দিয়ে প্রথম বর্ষ থেকেই সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। এর চেয়ে বড় মানবসম্পদের অপচয় আর কী হতে পারে!


বাজারের প্রভাবকে বাস্তবতার কারণেই অস্বীকার করা যাবে না; কিন্তু তা বলে বাংলাদেশে এভাবে জনগণের অর্থ ও মানবসম্পদের অপচয় হতে দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও নীতির অভাবে? বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু ‘ক্যাডার’ তৈরির কারখানা হয়ে থাকবে? গুণগত কাঠামোর কি কোনো পরিবর্তনই সাধিত হবে না? জনপ্রশাসনের লোকবল তৈরির জন্য উচ্চমাধ্যমিকের পরেই কেন ভাবা হবে না স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের কথা?


উচ্চশিক্ষার নগরকেন্দ্রিকতা


উপনিবেশ কালে ভারতবর্ষে নগরায়ণ ধারণার একটি বর্ধিত শাখা বা এক্সটেনশন হয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। নগরের শানশওকত বৃদ্ধি ও উন্নয়ন দেখানোর লোকরঞ্জনবাদী (পপুলিস্ট) জিয়নকাঠি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। নগর যেহেতু ব্যবসাকেন্দ্র, সেই ব্যবসাকেন্দ্রের জন্য থমাস ব্যাবিংটন মেকলে-কথিত ঔপনিবেশিক মননজাত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তৈরির কারিগর ছিল ইংরেজি ভাষা ও ব্রিটিশ মডেলের বন্দরকেন্দ্রিক তথাকথিত ‘আধুনিক’ বিশ্ববিদ্যালয়ব্যবস্থা। সেই ঔপনিবেশিক মনোজগৎ থেকে আমরা আজও বেরোতে পারিনি।


বাংলাদেশেও নগরায়ণ ও বিশ্ববিদ্যালয় পরস্পরের পরিপূরক। যত বিশ্ববিদ্যালয়, তত নগরায়ণ—লোকরঞ্জনবাদী উন্নয়নের এই হলো মডেল ও মানদণ্ড। পুঁজি এসে পুঞ্জীভূত হচ্ছে এই এককেন্দ্রিক নগরকাঠামোয় এবং স্বভাবতই পুঁজির তাড়নায় নগরমুখী হচ্ছে মানুষ। যে কারণে সব বড় শহরে, বিশেষত রাজধানীতে প্রান্তিক জনপদের তরুণ-তরুণীরা ঠাঁই পেতে মরিয়া। আর সেটিরই প্রবেশদ্বার হলো এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।


বলা বাহুল্য, বিদ্যায়তনিক গুণমান যা-ই হোক না কেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ঐতিহ্য আর বাজারে তাদের সনদের উচ্চ কদর অনেকাংশেই একটি ‘ভানুমতীর খেল’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সুযোগ পেতে শিক্ষার্থীরা জীবন বাজি রাখেন। পরোক্ষে থাকে নগরজীবন ও তার বাজার-ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার হাতছানি। এভাবেই নগরগুলোতে জনঘনত্ব বাড়তে থাকে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও