দীর্ঘ প্রণয়ের পর বিচ্ছেদের পথে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র

www.ajkerpatrika.com আব্দুর রহমান প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৪

ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখন এক আশ্চর্য বিচ্ছেদকাল চলছে। অনেকে একে ‘গ্রেট ডিভোর্স’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। একসময় যারা ছিল অভিন্নহৃদয়ের মিত্র, যাদের বন্ধুত্বকে বলা হতো আটলান্টিক সম্পর্কের অটুট বন্ধন, সময়ের ফেরে সেই বন্ধনে এখন গভীর ফাটল ধরেছে।


২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আসার পর এই দূরত্ব শুধু সাময়িক রাজনৈতিক মনোমালিন্যে আটকে থাকেনি, বরং তা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। ইউরোপ এখন হাড়েমজ্জায় বুঝতে পারছে, তারা আর অন্ধভাবে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করতে পারে না।


ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলস (ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার্স) এখন আর এক চোখে দুনিয়া দেখছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো মনোযোগ এখন লাতিনে, ‘নিজের আঙিনায়’। তারা তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি আটলান্টিক অঞ্চলে মোতায়েন করতে চাইছে। অন্যদিকে ইউরোপের দরজায় কড়া নাড়ছে রাশিয়ার ভয়। এই যে দুই পক্ষের ভয়ের জগৎ আলাদা হওয়া—এটাই বর্তমান বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেন যুদ্ধের দায়ভার ইউরোপের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে এড়িয়ে যেতে চায়। ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট কথা, ইউরোপের নিরাপত্তার খরচ তাদেরই জোগাতে হবে, আমেরিকা আর কতকাল পরদেশি মানুষের পাহারাদার হয়ে থাকবে? এই রূঢ় বাস্তবতা ইউরোপকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের পর এই বিচ্ছেদের পালে সবচেয়ে বেশি হাওয়া দিচ্ছে ফ্রান্স। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ অনেক দিন ধরে বলে আসছেন, ইউরোপকে আমেরিকার ‘ভ্যাসাল’ বা আজ্ঞাবহ হয়ে থাকলে চলবে না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ওকালতি করছেন। ফরাসি পররাষ্ট্রনীতি এখন স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটন থেকে দূরত্ব বজায় রাখার দিকে ঝুঁকছে।

ফ্রান্স এখন ইউরোপের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বা স্ট্র্যাটেজিক অটোনমির প্রধান কারিগর হয়ে উঠেছে। তারা চাইছে ইউরোপের নিজস্ব সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে, যেন ন্যাটোর অজুহাতে ওয়াশিংটন তাদের ওপর খবরদারি করতে না পারে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য ডেনমার্কের ওপর চাপ তৈরি করে এবং উত্তর মেরুতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়, তখন ফ্রান্সই প্রথম উচ্চকণ্ঠে এর প্রতিবাদ জানায়।


ফ্রান্সের এই অবস্থান আসলে ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের লড়াই। ডেনমার্ক যখন সাফ জানিয়ে দিচ্ছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, তখন ফ্রান্স সেই অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা এখন আর আমেরিকার ছায়াতলে থাকতে খুব একটা ইচ্ছুক নয়। শুধু ফ্রান্স নয়, জার্মানিও একই পথে হাঁটছে। যদিও তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় ততটা সরব নয়, কিন্তু দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় ‘প্রচলিত সেনাবাহিনী’ গড়ে তুলতে চায়, যা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে বড় আকারের সেনাবাহিনী।


আস্থার এই সংকটে ঘি ঢেলেছে ভূ-রাজনীতির নতুন মেরুকরণ। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে নিজের এক নম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করে অর্থনৈতিক বিবেচনায়, যদিও নিরাপত্তার জায়গা থেকে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে এখন আগের মতো আর ‘প্রধান’ শত্রু ভাবছে না। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে ট্রাম্প বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন। এর থেকে রেহাই পায়নি ইউরোপও। চীনকেই প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ধরে ওয়াশিংটন তার ইউরোপীয় মিত্রদের বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের চাপ দিচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ইউরোপের বড় অংশ তখন হাঁটছে ঠিক উল্টো পথে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও