কিডনি রোগীরা যা খাবেন
শরীরের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয় কিডনি। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে বা কিডনির অসুখ হলে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে যাদের ডায়ালাইসিস করাতে হয়, তাদের খাবারদাবারে নানা বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ প্রয়োজনীয় হলেও কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে এগুলো শরীরে জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এসব উপাদানযুক্ত খাবার সীমিত রাখতে বলেন চিকিৎসকেরা।
এত নিয়মের মধ্যে কী খাবেন—এই প্রশ্নে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। সীমিত সবজি আর একঘেয়ে রান্না খাবারের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তবে কিছু সহজ পরিবর্তনে স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুটোই বজায় রাখা সম্ভব।
চিলা ও স্ক্র্যাম্বলড এগ
কিডনির সমস্যায় অনেক সময় ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে সাদা অংশ খেতে বলা হয়। প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম খেতে ভালো না লাগলে বিকল্প হিসেবে চিলা বানানো যেতে পারে। দেড় টেবিল চামচ ওটস গরম পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে নরম হলে ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে মেশান। এতে অল্প পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চিলার মতো ভেজে নিন। চাইলে পেঁয়াজ, বেলপেপার ও ধনেপাতা দিয়ে ডিমের সাদা অংশ দিয়ে স্ক্র্যাম্বলড এগও তৈরি করা যায়।
ধনেপাতার স্যুপ
কিডনির রোগীদের জন্য ধনেপাতা ও পার্সলে তুলনামূলক নিরাপদ। এগুলো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। অল্প তেলে আদা ও রসুন কুচি হালকা ভেজে পেঁয়াজকুচি দিন। লবণ ও পানি দিয়ে ফুটতে বসান। পানি ফুটলে ডাঁটি-সহ একমুঠো ধনেপাতা দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে শেষে সামান্য লেবুর রস ও গোলমরিচ গুঁড়া যোগ করলেই তৈরি সুস্বাদু স্যুপ।
ব্রকলি বল
কম পটাশিয়ামযুক্ত সবজির তালিকায় ব্রকলি রয়েছে। একঘেয়ে তরকারির বদলে বানাতে পারেন মুচমুচে ব্রকলি বল। ব্রকলি ধুয়ে ছোট করে কেটে ব্লেন্ডারে হালকা গুঁড়া করুন। এতে ডিমের সাদা অংশ, লবণ, গোলমরিচ, রসুন ও পেঁয়াজ কুচি মেশান। ছোট বল বানিয়ে এয়ার ফ্রায়ারে বা অল্প তেলে ভেজে নিলেই তৈরি হবে ভিন্ন স্বাদের স্বাস্থ্যকর খাবার।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- কিডনি রোগী
- খাবার খাওয়া