দেশে কি একটা বড় তরুশালা হবে

www.ajkerpatrika.com মৃত্যুঞ্জয় রায় প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬

কেন জানি না গত বছর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বৃক্ষমেলাকে অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। এর একটি প্রধান কারণ—বেশ সুসজ্জিত মনোরম ও পরিপাটি করে গাছপালা দিয়ে সাজানো, মনে হচ্ছিল যেন এক চমৎকার প্লান্ট কনজারভেটরিতে এসে পড়েছি। কিছু কিছু নার্সারির সামনে চমৎকার ল্যান্ডস্কেপ করা হয়েছে। কেউ যদি তাঁর বাড়িতে এ ধরনের ছোট একটা নান্দনিক উদ্যান করতে চান, তাহলে সেখান থেকে আইডিয়া ও পরামর্শ নিতে পারেন, উপকরণও মিলতে পারে। এমন সবুজ কোমল ঘাসের লন, ওয়াকওয়ে, জলাধার, কটেজ—নান্দনিক শোভাময়ী সব বাহারি গাছপালা! কী চমৎকার সব কাজ আমাদের তরুশিল্পীদের, দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এত মেধা ও শৈল্পিক রুচির মানুষ এ দেশে থাকতে আমাদের কেন বিদেশের মতো একটা বড় তরু সংগ্রহশালা তথা প্লান্ট কনজারভেটরি হলো না, সেটাই আক্ষেপের বিষয়।


জাতীয় বৃক্ষমেলার মতো বিদেশে অনেক গাছপালা সাজিয়ে এ রকম পরিপাটি করে স্থায়ীভাবে রাখা হয়। সেগুলোকে বলা হয় প্লান্ট কনজারভেটরি। আমাদের দেশে আছে বোটানিক্যাল গার্ডেন, কিন্তু বিদেশের মতো সুসংরক্ষিত এরূপ কোনো প্লান্ট কনজারভেটরি নেই। ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্লান্ট কনজারভেটরি দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গিয়েছিল, যেমন তার পরিকল্পনা, তেমন তার নকশা আর সারা বিশ্বের হাজার হাজার প্রজাতির গাছপালা সেখানে তুলে আনা হয়েছে। একেক অংশ ভাগ করে বিশ্বের একেক অঞ্চলের গাছপালা সেখানে রাখা হয়েছে। আহা, দর্শন আর গবেষণার কী চমৎকার সুযোগ! সারা বিশ্ব ধরে তো আর ঘুরে ঘুরে সেখানকার গাছপালা দেখা যাবে না, কিন্তু এক ছাদের নিচে যদি এশিয়া, আফ্রিকা, আমাজন, ইউরোপ, আমেরিকার গাছপালা দেখা যায় তো তাতে দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে গাছপালা দেখার কষ্ট লাঘব হয়, সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচে। তা ছাড়া যে গাছ দেখতে চাইছি, সে দেশের কোথায় সে গাছ আছে কে জানে?


যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে গিয়ে ফিপস কনজারভেটরিতে যখন ঢুকেছিলাম, সারাটা দিনেও তার গাছপালা সব দেখে শেষ করতে পারিনি। সেখানে গিয়ে যখন আমাদের দেশের কলাগাছ, আমগাছ, কুলগাছ ও পেয়ারাগাছে ফল ধরা দেখলাম, পেঁপেগাছে ঝুলছে বড় বড় পেঁপে, শত শত লালরঙা কালো জবা ফুল ফুটে রয়েছে, তখন মনে হলো আমেরিকায় বসে যেন বাংলাদেশকেই দেখছি। যাঁরা উদ্ভিদশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেন, বইপত্রে ছবি দেখে দেখে সেসব গাছপালা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন, সেসব গাছ যদি এমন বাস্তবে চোখের সামনেই ছুঁয়ে দেখা যায় তাহলে তার আনন্দটাই হয় অন্য রকম।


এ দেশে একটা জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান আছে, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছোট ছোট উদ্ভিদ উদ্যান আছে। ছোট ছোট কিছু কাচের ঘরও গাছপালা রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন ও প্লান্ট কনজারভেটরির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, বোটানিক্যাল গার্ডেন সাধারণত খোলা ও অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গড়ে তোলা হয়। প্লান্ট কনজারভেটরিও একধরনের বোটানিক্যাল গার্ডেন, তবে প্রকৃত বোটানিক্যাল গার্ডেন না। এগুলো খোলা পরিবেশে হয় না, হয় কাচের ঘরে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। সত্যি বলতে কি, দেশে এখন পর্যন্ত সুসংবদ্ধ রীতিদুরস্ত কোনো বড় তরুশালা গড়ে ওঠেনি।


প্লান্ট কনজারভেটরি বা তরুশালাগুলো হয় সাধারণত কাচের ঘরের ভেতর, যেখানে যেসব উদ্ভিদ রাখা হয় সেসব উদ্ভিদের উপযুক্ত পরিবেশ ও আবহাওয়া বজায় রাখা হয়। এগুলো তৈরি করা হয় শুধু দেশ-বিদেশের গাছপালাগুলোকে রাখার ভান্ডারের জন্য না, বরং সেসব গাছপালার বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য সর্বোত্তম আরামদায়ক পরিবেশ প্রদান করা হয়। গাছপালাগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা আলাদা পরিবেশে লাগানো হয়। যেমন তালজাতীয় গাছের জন্য পাম হাউস, অর্কিডের জন্য অর্কিড হাউস, মরুভূমির উদ্ভিদের জন্য ডেজার্ট হাউস, উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদের জন্য ট্রপিক্যাল হাউস, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভিদের জন্য মেডিটেরানিয়ান হাউস ইত্যাদি। আগত দর্শনার্থীরা আবার সেসব দেখে যাতে আনন্দ পায়, সে জন্য সেসব তরুশালায় নানা রকমের সৌন্দর্যও সৃষ্টি করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে উদ্ভিদসংক্রান্ত অনেক বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান লাভ করতে পারে, গবেষকেরাও পান তাঁদের গবেষণার খোরাক।


এসব তরুশালার আর একটা বড় সুবিধা হলো সারা বছরই পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকায় গাছগুলো সেখানে ভালোভাবে টিকে থাকে। কোনো কোনো তরুশালায় নানা রকম অনুষ্ঠান আয়োজনেরও সুযোগ থাকে। খোলা স্থানে কখনো যেকোনো গাছ জন্মানো বা বাঁচিয়ে রাখা যায় না, শুধু স্থানিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই গাছপালাই রাখা যায়। কিন্তু তরুশালার ভেতরে চাইলে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে যেকোনো গাছই রাখা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও