ওদের কান্নায় কাঁদল দেশজনতা

যুগান্তর এম এ হামিদ প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫

এ দেশে প্রতিদিন সূর্য ওঠে। কিন্তু বহু ঘরে সকাল আসে না। এ দেশে রাত নামে, কিন্তু কিছু মায়ের চোখে ঘুম নামে না। কারণ-তাদের বাবারা ফেরে না। একটি রাষ্ট্র শুধু তার সীমানা দিয়ে পরিচিত হয় না; পরিচিত হয় তার মানুষের কান্না দিয়ে। বাংলাদেশ আজ এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে হাজারও পরিবার ‘অপেক্ষা’ নামক একটি অনন্ত কারাগারে বন্দি। তাদের অপরাধ নেই, তবু শাস্তি চরম। তাদের স্বজনরা গুম হয়েছে-রাষ্ট্রের ছায়ায়, রাষ্ট্রের নীরবতায়।


সেই পরিবারগুলোর আকুতির কথা শুনে আজ যখন তারেক রহমান কাঁদেন, সালাহউদ্দিন আহমদ কাঁদেন, রিজভী আহমেদ কাঁদেন এবং তাহসিনা রুশদী কাঁদেন-সেই কান্না শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়; এটি সেই দীর্ঘ ইতিহাসের কান্না, যেখানে একটি রাষ্ট্র বছরের পর বছর নাগরিকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় সেই কান্না দেখে দেশবাসী কেঁদেছে। কারণ, মানুষ বুঝেছে-এ গল্প শুধু রাজনীতিকদের নয়, এটি আমাদের সবার।


২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক এক গভীর সংকটে প্রবেশ করে। ক্ষমতার কেন্দ্র ক্রমশ এমন এক জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে ভিন্নমত মানেই রাষ্ট্রের শত্রু। বিরোধী রাজনীতির পরিচয় হয়ে ওঠে ‘ঝুঁকি’, ‘হুমকি’ কিংবা ‘নিরাপত্তা সমস্যা’। এ সময় থেকেই গুম একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় অভিযোগে পরিণত হয়। দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যে উঠে আসে-এ সময়ে শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ বিরোধী রাজনৈতিক পরিচয়ের। কেউ আর ফেরেনি, কেউ লাশ হয়ে ফিরেছে, কেউ আবার বছরের পর বছর অজানা বন্দিত্ব শেষে হঠাৎ আবির্ভূত হয়েছে অন্য দেশে, অন্য পরিচয়ে।


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশ্লেষণে বলা হয়-যখন রাষ্ট্র রাজনৈতিক পরিবার বা বিরোধী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতে আইনি ও অনানুষ্ঠানিক সব শক্তি ব্যবহার করে, তখন সেটি গণতন্ত্র নয়, এটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের লক্ষণ। জিয়া পরিবার সেই বাস্তবতার জীবন্ত উদাহরণ।


২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি ছিল একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া-ভয়ের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে বলেছে systematic repression। জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সবাই একই ভাষায় বলেছে, বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ছিল বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ধারাবাহিক ও কাঠামোগত।


এ enforced disappearances বা গুমের ঘটনাগুলোর একটি বিশাল অংশ রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত-তদন্ত কমিশন রিপোর্টে দেখা গেছে, বিচারবহির্ভূত নিখোঁজদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ রাজনৈতিক দলের কর্মী, আর ৬৮ শতাংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সদস্য।


গুম শুধু সংখ্যা নয়, এগুলো ছিল জীবন্ত মানুষ। একজন বাবা, একজন ছেলে, একজন ছাত্র, একজন রাজনৈতিক কর্মী। গুম মানে শুধু একজন মানুষ হারিয়ে যাওয়া নয়; গুম মানে একটি পরিবারকে আজীবনের অনিশ্চয়তায় বন্দি করা। মৃত্যু হলেও শোকের শেষ থাকে, কিন্তু গুমের কোনো সমাপ্তি নেই। মা জানেন না তার সন্তান বেঁচে আছে নাকি নেই, স্ত্রী জানেন না তার স্বামী ফিরবে নাকি কোনোদিন ফিরবেই না, সন্তান জানে না সে এতিম কিনা। এটি চলমান মানসিক নির্যাতন; যা প্রতিদিন নতুন করে হত্যা করে।


এ দীর্ঘ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও একটি ভয়াবহ স্বাভাবিকতায় পৌঁছায়। ‘ক্রসফায়ার’, ‘এনকাউন্টার’-এ শব্দগুলো ধীরে ধীরে জনজীবনে ঢুকে পড়ে। রাষ্ট্র নিজেই যেন বিচারক হয়ে ওঠে, অভিযোগ তোলে, রায় দেয়, শাস্তি কার্যকর করে-সবকিছু আদালত ও সংবিধানের বাইরে। এ সংস্কৃতি কোনো বিচ্ছিন্ন সময়ের ফল নয়; এটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক পছন্দ। ফ্যাসিবাদ ঠিক এখানেই জন্ম নেয়, যখন রাষ্ট্র আইনকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও