লোকসানে কৃষক, আলুর আবাদ কমছে
কুয়াশা মোড়ানো শীতের সকাল। এ সময় মো. আবুল কালামের থাকার কথা ছিল মুন্সিগঞ্জের বিস্তীর্ণ আলুখেতে। নিড়ানি দেওয়া কিংবা সার ছিটানোয় ব্যস্ত থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ৬৫ বছর বয়সী এই কৃষকের দিন কাটছে রাজধানীর মিরপুরের রাস্তায় রাস্তায়। ভ্যানে করে বেকারি পণ্য বিক্রি করছেন তিনি। আলু চাষে বড় লোকসানের পর নিজের শেষ সম্বল জমিটুকু বাঁচাতে কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়েছেন আবুল কালাম। এখন তিনি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।
গত ১৫ ডিসেম্বর সকালে আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক দফা আলুতে শুধু লোকসান দিয়েছি। সর্বশেষ দুই লাখ টাকা হারিয়ে এখন জমি বাঁচাতে চাষবাস ছেড়ে দিলাম। ভ্যান চালিয়ে বেকারি পণ্য বিক্রি করে যা পাই, তাতে অন্তত নিশ্চিত লোকসান নাই।’
আবুল কালামের এই গল্প আজ দেশের হাজার হাজার আলুচাষির গল্প। গত মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি আর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানে পড়েন কৃষক। ফলে চলতি মৌসুমে সারা দেশে আলুর আবাদ কমেছে। দেনা শোধে অনেক কৃষক অন্য পেশায় নাম লেখাচ্ছেন। আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ, কেউবা ভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন।
উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করলে আলু চাষে খরচ ও বিক্রির হিসাবের ফারাক পাওয়া যায়। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া বাবদ যোগ হচ্ছে আরও ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। অথচ চলতি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হিমাগার পর্যায়ে পাইকারি আলু বিক্রি হয় মাত্র ৫ থেকে ৮ টাকায়। অর্থাৎ আলু বিক্রি করে কৃষকের হিমাগারের ভাড়ার টাকাই উঠছে না। তবে গতকাল রোববার পর্যন্ত হিমাগারের মজুত আলু অনেকটাই কমে এসেছে। বাজারে কেজিতে আলুর দামও বেড়েছে ১০ টাকা।
বর্তমানে খুচরা বাজারে ভোক্তা প্রতি কেজি আলু কিনছেন ৩০ টাকায়। যদিও কৃষক এর অর্ধেক দামও পাননি। গত বছরের এই সময়ে খুচরা বাজারে আলুর দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালে আলুর গড় বাজারমূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে কৃষক উৎপাদন খরচও পাননি।