এলপিজির কারসাজিতে অসহায় জনগণ

www.ajkerpatrika.com এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩

কয়েক দিন আগে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ‍্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে তারা। প্রশ্ন হলো, দাবি শুধু ব্যবসায়ীদেরই থাকবে? ভোক্তা বা দেশের নাগরিকদের কি কোনো দাবি থাকতে পারে না? জনগণকে জিম্মি করে এভাবে দাবি আদায়ের আন্দোলন যাঁরা করেন তাঁরা কি ব্যবসায়ী, নাকি লুটেরা?


ইতিমধ্যে গত কয়েক দিনে রান্নার জন্য অপরিহার্য এই পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের লাখ লাখ পরিবার প্রতিদিনের রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহরের পরিবারগুলোর কাছে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করারও সুযোগ নেই।


বাজারে এমনভাবে সংকট তৈরি করেছে অসৎ ব্যবসায়ীরা যে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি সিলিন্ডার। সারা দেশে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভোক্তা পর্যায়ে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। এ সুযোগে ভোক্তাদের জিম্মি করে দ্বিগুণ দামে এলপিজি বিক্রি করছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বাসাবাড়ি, রেস্তোরাঁয় এলপিজি ব্যবহারকারীরা। ফোনে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ২২০০-২৫০০ টাকা বললেও সাংবাদিক বা টিভি ক্যামেরা দেখে এর মূল্য হয়ে যায় ১৫০০ টাকা! এর কারণ কী?


বড় কোম্পানিগুলো সাপ্লাই দিতে পারছে না। উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একটা গাড়ি একদিন গেলে চার-পাঁচ দিন পরপর লোড হয়। সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, শীতে চাহিদা বেশি থাকলেও ভূরাজনৈতিক সমস্যা ও জাহাজ সংকটের কারণে তৈরি হয়েছে এ সংকট। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কোম্পানিগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করে। তবে ভূরাজনৈতিক কারণে একটি বড় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এটা অন্যতম কারণ। মনে হচ্ছে, এ সমস্যা সমাধানে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে, যা উদ্বেগজনক। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরো এলপিজি বাজারকে অস্থিতিশীল করে জনগণের পকেট লুট করছে অসৎ ব্যবসায়ীরা।


প্রতি মাসের প্রথম দিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সরকার-নির্ধারিত সেই মূল্যে এলপিজি বিক্রি হয় না কখনোই। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এলপিজির চাহিদা ৯০ লাখের বেশি। সেই হিসাবে প্রতিটি সিলিন্ডার থেকে যদি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি নেওয়া হয়, তাহলে গড়ে মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে গ্রাহকের পকেট থেকে। তারপরও কেন এই অরাজকতা সৃষ্টি করে জনগণের পকেট কাটছে তারা?


এলপিজির এই পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে থাকে সংশ্লিষ্টরা। খুচরা বিক্রেতারা দোষারোপ করছেন ডিলারদের, ডিলাররা দোষারোপ করছেন বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আর বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুষছে বিইআরসিকে। কিন্তু এই ফাঁকে লুটপাটের শিকার হচ্ছে ভোক্তারা। ২৮টি কোম্পানি বর্তমানে এলপি গ্যাসকে সিলিন্ডারে ভরার ব্যবসা করছে। এসব কোম্পানির কর্তাব্যক্তিদের দাবি—বিইআরসির দাম নির্ধারণ ফর্মুলা বাস্তবসম্মত নয়। পরিবহনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ সমন্বয় করা হয় না এতে। তাঁরা আরও দাবি করেন, বাজার অস্থিতিশীল কোনোভাবেই হতো না যদি বিইআরসি এবং অপারেটরদের সমন্বয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের সত্যিকারের মার্জিনটা তুলে ধরা হতো। প্রাইসিং ফর্মুলা অ্যাকিউরেট করতে হবে, না হলে ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলাররা সারভাইভ করতে গিয়ে দাম বাড়াবেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও