রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে

www.ajkerpatrika.com এম শামসুল আলম প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭

ড. এম শামসুল আলম একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি অধ্যাপনা করেছেন রুয়েট ও চুয়েটে। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অনেক গবেষণা প্রবন্ধ ও নিবন্ধ। সম্প্রতি এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চমূল্য ও সংকট; দেশের জ্বালানি সংকটের কারণ এবং সমাধানের উপায় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।


কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর সংকটের কারণ কী?


এ পরিস্থিতির জন্য সরকারই মূলত দায়ী, যেটা ১৯৮০ সাল থেকে শুরু। এ সময় থেকে কোনো জ্বালানি পরিকল্পনা না থাকাও মূল কারণ। সরকার তখন থেকেই মুনাফাভোগী এবং ব্যবসায়িক চরিত্র ধারণ করে। সরকারি কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুনাফার টাকা অপচয় ও তছরুপ করার জন্য নানাভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো অদক্ষ হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় বিষয়টা হচ্ছে, বেসরকারীকরণ ও ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাত উন্নয়ন করা কোনো ধরনের নীতি হতে পারে না। উন্নত দেশগুলো এ প্রক্রিয়ায় লাভবান হয়েছে। তারা টেকসই জ্বালানি খাত প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। তাদের এই অগ্রগতির পূর্ব শর্ত ছিল, রাষ্ট্রকে সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই সক্ষমতা অর্জন করার জন্য সরকার ২০০৩ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠন করে। সেটা ২০০৮ সালে অপারেশনে যায়। এরপর ২০১১-১২ সালের দিকে ‘প্রতিযোগিতা কমিশন’ গঠন করা হয়। এর আগে সরকার ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন এবং তার আওতায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই মূলত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার ব্যাপারে তৎপর থাকার কথা। একই সঙ্গে আইনের বিধিবিধানের অধীনে ক্ষমতার ব্যবহার নিশ্চিতভাবে কার্যকর করা। এরপর বিইআরসি সরকারি কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য করে।
তবে পরবর্তী সময়ে জ্বালানি খাত অবহেলার শিকার হয়। ফলে এ সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকট আকার ধারণ করে। এই চিত্র প্রাথমিকভাবে এ সেক্টরে প্রথম সামনে আসে এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সেক্টরেও তা প্রকট আকার ধারণ করে। এসব কারণে কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে থাকে। সেই দাম বাড়ানোর কারণে ক্যাবের একটা মামলায় হাইকোর্ট কোড অব কনডাক্ট অবমাননার অভিযোগে তাদের কোর্টে হাজির হতে বাধ্য করেন। বিচারের মাধ্যমে, তাদেরকে গণশুনানির মাধ্যমে গ্যাসের নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণে বাধ্য করেন। পরবর্তী সময়ে বিইআরসি সেখান থেকে সরে যায়। এরপর তারা ওই সব কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে গণশুনানি বাদ দিয়ে দরজা বন্ধ করে দাম নির্ধারণ করতে থাকে। এসব ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে আজকের দুরবস্থার চরম পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর আর কোনো ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্র এখন আর সক্ষম নয়। জ্বালানি সেক্টরকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কারণে এবং রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে মনোপলি, ওলিগোপলি বিস্তৃত হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও