You have reached your daily news limit

Please log in to continue


একজন জয়শ্রী কবির ও কৈশোরের স্মৃতি

গত শতকের আশির দশক। আমরা তখন স্কুলের ছাত্র। সেই সময় সিনেমাই ছিল আমাদের জীবনের প্রধান বিনোদন। মফস্বলে তখনও রঙিন টেলিভিশনের দেখা মেলেনি। কিছু সচ্ছল মানুষের ঘরে সাদাকালো টিভি ঢুকতে শুরু করেছে মাত্র। ভিসিবি–ভিসিআর তখন মফস্বলে দুর্লভ।

বিনোদন মানেই ছিল সিনেমা, আর সিনেমা মানেই হলে গিয়ে দেখা—যা আমাদের মতো কিশোরদের জন্য ছিল বেশ কঠিন। অভিভাবকদের নিষেধাজ্ঞা, টিকিট কেনার টাকার অভাব, সামাজিক পুলিশিং—সব মিলিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখাটা ছিল দুরূহ ব্যাপার। তারপরও আমরা লুকিয়ে, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে, প্রাইভেট পড়ার কথা বলে সিনেমা দেখেছি। ইত্তেফাকে সিনেমার বিজ্ঞাপন, চিত্রালী-পূবালীর মতো সিনে-পত্রিকা লুকিয়ে পড়া, কোনো কিছুই বাদ যেত না। সে সময় অধিকাংশ হলে চলত বাণিজ্যিক সিনেমা—গান, মারপিট আর অতিনাটকীয়তায় ভরপুর। আমরা সেই বয়সে অবশ্য সেগুলোই পছন্দ করতাম।

তবে আমরা ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ‘অকালপক্ক’ হয়ে উঠি বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে। বড়ভাইদের আঁতলামিতে প্রভাবিত হয়ে খুঁজতে শুরু করি ভালো গল্পের, সংযত অভিনয়ের সিনেমা—যেগুলোকে আজ আমরা আর্ট ফিল্ম বলি। আমরা যারা তখন ভিন্ন স্বাদের গল্প খুঁজতাম, তাদের আশ্রয় ছিল বিটিভি।

বিটিভির সেই সাদাকালো দিনের কথা এখন প্রায় রূপকথার মতো লাগে। ড্রয়িংরুমের এক কোণে রাখা বিশাল কাঠের বাক্সের ভেতর টেলিভিশন, ছাদের ওপর এন্টেনা ঘোরানোর কসরৎ আর ঝিরঝিরে পর্দার ফাঁক গলে ভেসে আসা ঝাপসা ছবি—সব মিলিয়ে সিনেমা দেখা তখন আমাদের জন্য ছিল এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা।

সম্ভবত কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় এক বড় ভাইয়ের বাসায় বিটিভিতে দেখেছিলাম ‘রূপালী সৈকতে’। তখন বিটিভিতে সিনেমা দেখাটাই ছিল ধৈর্যের বড় পরীক্ষা। আটটার খবর শেষ হতে রাত পৌনে নয়টা বেজে যেত। তারপর লম্বা বিজ্ঞাপন। সিনেমা শুরু হলে মাঝেমধ্যেই আবার বিজ্ঞাপন, এগারটার বাংলা খবর, ইংরেজি খবর—সব মিলিয়ে নানারকম ‘নির্যাতন’। ফাঁকে ফাঁকে সিনেমা। শেষ হতে হতে রাত দেড়টা-দুইটা বেজে যেত।

তবু ‘রূপালী সৈকতে’ আমার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। ততদিনে বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি, রুচিতেও এসেছে এক ধরনের পরিবর্তন। সিনেমাটির গল্প, আবহ ও নির্মাণ ছিল আলাদা, কিন্তু সবচেয়ে বেশি মনে দাগ কেটেছিল নায়িকার উপস্থিতি। শান্ত, স্নিগ্ধ, অথচ ভেতরে ভেতরে দৃঢ়—জয়শ্রী কবির। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল, তিনি আর পাঁচজন রূপালি পর্দার নায়িকার মতো নন। চড়া মেকআপ বা অতি অভিনয় দিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা তার ছিল না। তার চোখের চাউনিতেই যেন কথা বলত অসংখ্য না বলা গল্প। ‘রূপালী সৈকতে’ দেখার পর প্রিয় অভিনেত্রীর তালিকা থেকে ববিতা বাদ পড়ে যান, সেখানে স্থান নেন জয়শ্রী কবির।

আমরা যে সমাজতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখতাম সেই রাজনীতির ছায়া দেখেছিলাম ‘রূপালী সৈকতে’ সিনেমার কাহিনিতে। রোমান্টিক বিপ্লবী রাজনীতি, গোপন সংগঠন, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন, সম্পর্কের সূক্ষ্ম টান আর অপূর্ণতার গল্প দিয়ে সাজানো এই সিনেমা খুব ভালো লেগেছিল। সাটামাটা কাহিনি, সাদামাটা অভিনয়। জয়শ্রী কবির এখানে সমকালীন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নারীর প্রতীক। তার চরিত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকে স্বপ্ন, হতাশা, ভালোবাসা আর এক ধরনের নিঃশব্দ ক্লান্তি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন