ট্রাম্পের নানামুখী পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা

যুগান্তর আমেরিকা / যুক্তরাষ্ট্র আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৬

অশান্ত বিশ্ব আরও অশান্ত হয়ে উঠছে। গত মাসের শেষদিকে আমেরিকান সৈন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২ হাজার ১২৫ মাইল দূরবর্তী ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উঠিয়ে নিউইয়র্কে এনে বিচার শুরু করেছে। ওয়াশিংটন থেকে ৬ হাজার ১০০ মাইল দূরে অবস্থিত ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রচণ্ড বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে প্রায় পাঁচ দশক আগে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি বিপ্লবী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরবর্তী ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় জীবিত ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা নিয়েছেন ট্রাম্প।


২ হাজার মাইল দূরের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বজুড়ে মোড়লিপনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখছে না দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপের জোরালো প্রতিবাদ করলেও তারা পালটা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এমন কোনো আভাস দেখা না গেলেও পরিস্থিতি যদি তাদের কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করে, সেক্ষেত্রে পরিণতি কী হবে, তা কল্পনা করে বিশ্ববাসী এক ধরনের অস্থিরতা, অজানা আশঙ্কা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।


অভিবাসী দমনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন


অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র যখন খুব ভালো অবস্থায় নেই, তখন ট্রাম্প প্রশাসন কী কারণে বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মাঝে ভিন্নমত দেখা গেলেও একটি বিষয়ে তারা একমত-যুক্তরাষ্ট্র ভেতর থেকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভোগ্যপণ্য ও সব ধরনের সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমেরিকানরা গত কয়েক বছর ধরেই বিক্ষুব্ধ, যা এখন বিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কার অভিযান পরিস্থিতিকে আরও সঙ্গিন করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড গণবিক্ষোভ দিন দিন গতি লাভ করবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক, দীর্ঘদিন থেকে যেগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করার পর সে আইনগুলো প্রয়োগ করে অভিবাসীদের ধরপাকড় ও বহিষ্কার শুরু করেছেন। বৈধ অভিবাসী ভিসায় আগতরা আমেরিকানদের জন্য নির্ধারিত কল্যাণমূলক সুবিধাগুলো ‘অগ্রহণযোগ্য ও মাত্রাতিরিক্ত হারে’ গ্রহণ করছে অভিযোগ তুলে ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কিনা, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আদৌ কোনো তোয়াক্কা করছে না।


সবকিছু মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার জনগোষ্ঠীর অর্ধেক বা তারও বেশি অংশের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্য ও বড় বড় শহর তার প্রতিপক্ষ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণে, সেসব অঙ্গরাজ্য ও শহরে যেহেতু অভিবাসীরা বিপুলসংখ্যায় বসবাস করেন, ওই শহরগুলোতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভিবাসীবিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইস)।


এ অভিযান কি শুধু অবৈধ অভিবাসী আটক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে? ডেমোক্রেটিক পার্টি, অভিবাসন অধিকার প্রবক্তা সংগঠনগুলোর মতে, ট্রাম্প যুগে ‘আইস’র অভিযানের আসল উদ্দেশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অঙ্গরাজ্য ও শহরের ভোটাররা ভোট দিয়ে এবং তাদের শহরকে অভিবাসীদের জন্য ‘স্যাঙ্কচ্যুয়ারি সিটি’ বা অভয়াশ্রম হিসাবে ঘোষণা করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে অভিবাসীদের সঙ্গে ‘আইস’ যে নিষ্ঠুর আচরণ করছে, তাতে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের শাসনামল কি জার্মান একনায়ক হিটলার ও তার নাৎসি যুগের সমান্তরালে চলছে? ‘আইস’কে তুলনা করা হচ্ছে হিটলারের ‘গেস্টাপো’র সঙ্গে।


তেলের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার যুদ্ধ


যুক্তরাষ্ট্র আগেও বহু দেশে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে অপ্রয়োজনীয় নারকীয় যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ট্রাম্পের অধীনে এখন কি ভিন্ন ধরনের কিছু ঘটতে যাচ্ছে? বহির্বিশ্বে কোনো যুদ্ধে জড়িত হলে এবং অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে সামাজিক পরিবর্তন আসবে, তার সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। ট্রাম্প সম্ভবত আমেরিকান সমাজে ঘৃণা ও রাজনৈতিক তিক্ততা ছড়িয়ে দিয়ে এর সুযোগ গ্রহণ করতে চেষ্টা করছেন এবং এ লক্ষ্যেই তার সমর্থকদের ক্ষমতায়ন করছেন। তিনি তার ভাষায় ‘বাজে লোকদের’ নির্মূল করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তিনি ও তার সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে তারা ‘শ্বেতাঙ্গদের আমেরিকা’ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। ভেনিজুয়েলা, ইরান, গাজা, উত্তর কোরিয়া, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প যা করতে চান, তা থেকে কিছুটা হলেও আমেরিকান জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এতে তিনি অনেকটাই সফল।


ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুত আছে প্রমাণিত হওয়ার আগে ইরান ছিল বৃহৎ তেল সম্পদ ভান্ডারের দেশ। এক শতাব্দীর কিছু সময় আগে ইরানের দুর্বল, অবৈধ ও দেউলিয়াত্বের প্রান্তে উপনীত হওয়া ‘কাজার রাজবংশ’ নামেমাত্র মূল্যে দেশটির পেট্রোলিয়াম সম্পদের অধিকার ব্রিটিশ খনি মালিক উইলিয়াম নক্স ডি’আরকির কাছে ন্যস্ত করে। ওই সময় ইরানে কোনো পেট্রোলিয়াম শিল্প ছিল না এবং তেলের সম্ভাব্য মজুতের কোনো নিশ্চয়তাও ছিল না। কাজাররা ইরানকে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মালিকানাধীন ভূখণ্ড বিবেচনা করত এবং তাদের খেয়ালখুশিমতো যেসব কোম্পানি বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত, তাদের উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারি প্রদান এবং জাতীয় সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিল। ইরানিরা তাদের দেশের ওপর পাশ্চাত্যের খবরদারির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল লড়াই করেছে এবং বারবার তাদের সরকারকে বাধ্য করেছে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও