ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট অপহরণের নেপথ্য খতিয়ান

জাগো নিউজ ২৪ মহসীন হাবিব প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪

পৃথিবী কীভাবে চলছে তার আরেকটি জলবৎ উদাহরণ দেখা গেল। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ৩ জানুয়ারি রাতে দেশটির রাজধানী কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ আলোচনায় সরব আমাদের দেশের চায়ের দোকান, পানের দোকানও। অবাক কাণ্ডই তো! এক দেশের প্রেসিডেন্টকে আরেক দেশের প্রেসিডেন্টের আদেশে ধরে নিয়ে যাওয়া আধুনিককালে বিরল ঘটনাই বটে।


একই কাণ্ড যদিও যুক্তরাষ্ট্র পূর্বেও ঘটিয়েছিল। তবে মাদুরোকে সস্ত্রীক ধরে নিয়ে যাওয়া অপ্রত্যাশিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র যে ভেনিজুয়েলায় আক্রমণ করতে যাচ্ছে সেটা বোঝা গিয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসেই। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনিজুয়েলা ঘিরে ফেলে। তখন উচ্চৈঃস্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দোষারোপ করতে থাকেন, ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের জন্য দায়ী। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে নারকো টেরোরিস্ট বা মাদক সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যায়িত করেন। শুধু দায়ী করা নয় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে প্রথম ভেনিজুয়েলার উপকূলে একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমায় প্রবেশ করামাত্র একের পর এক কমপক্ষে ২০টি ছোট বড় নৌযানে হামলা চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রায় ১০০ ব্যক্তিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।


প্রথম ১১ জনের মৃত্যুর একটি করুণ কাহিনীও আছে। যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী বিনা বিচারে হত্যার সবক দিয়ে বেড়ায়, বিভিন্ন সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে, সেই যুক্তরাষ্ট্রই ওই ১১ জনের উপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। ক্যারিবিয়ান সাগরে ওই নৌকায় থাকা ৯ জন নিহত হলেও দুজন প্রথম আক্রমণে প্রাণে বেঁচে যায়। সেই প্রাণে বাচার ভাগ্যকেও ভোগ করতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয়বার হামলা করে অথৈ সমুদ্রে হত্যা করার আদেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ এবং ওই দুজন হতভাগ্যের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।


খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট সে সংবাদ প্রকাশ করে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো প্রমাণ নেই অথবা তারা কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি যে ওই নৌযানে কোনো মাদক পাচার হচ্ছিল। সত্যিই কি ভেনিজুয়েলা এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকহারে মাদক পাচার করে? এক কথায় উত্তর হল, না। পরিসংখ্যান আছে যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের মাত্র ১০ শতাংশেরও কম যায় ভেনিজুয়েলা থেকে। ৯০ থেকে ৯৪ শতাংশ প্রবেশ করে মেক্সিকো থেকে। কিন্তু মাদকের নামে যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেটে পরিণত হয় ভেনিজুয়েলা।


কেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে টার্গেট করেছে তা বোদ্ধাদের কাছে তখনই পরিষ্কার হয়েছিল। ওই সেপ্টেম্বর মাসেই রাজনীতি সচেতন পশ্চিমারা নিশ্চিত ছিলেন যে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলায় আক্রমণ করতে যাচ্ছেন। যদিও আমাদের অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত এবং অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। ভেনিজুয়েলায় হস্তক্ষেপের বেশ কয়েকটি কারণ একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। এর প্রথম এবং প্রধান কারণ দেশটির তেল। বিশে^র সবচেয়ে বড় তেলের ভাণ্ডার ভেনিজুয়েলা। কিন্তু বহু কারণে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলির মত ভেনিজুয়েলা আগাতে পারেনি।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঠিক এই মুহূর্তে ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি আমেরিকানের মাথাপিছু ১ লাখ ২৬ হাজার ডলার দায়। হু-হু করে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। ২০২৫ সালে বাসাবাড়ির বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৬.৯ শতাংশ। এই অবস্থায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের অথবা জীবন যাত্রার মান স্থিতিশীল রাখার কোনো পথই খোলা নেই, একমাত্র বাহুবল প্রয়োগ করে অন্যের সম্পদে হাত দেওয়া ছাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবটা পরিষ্কার: সৌদি আরবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ তেল এবং খনিজ মূল্যবান ধাতু ভেনিজুয়েলায় পড়ে থাকবে আর যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে হিমশিম খাবে তা তো হতে পারে না!


কারাকাসে হামলার দ্বিতীয় নেপথ্য কারণটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাদুরো বলিভিয়ার ক্যারিশম্যাটিক নেতা হুগো শ্যাভেজের শিষ্য এবং বলিভারিয়ান। দেশটির অফিসিয়াল নামই হল, বলিভারিয়ান রিপাবলিক অব ভেনিজুয়েলা। অর্থাৎ সিমন দি বলিভারের অনুসারী দেশটি মার্কসিস্ট-স্যোসালিস্ট। এই লেফট বা বাম হল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এলার্জি, চক্ষুশুল এবং আতঙ্ক। অধিকন্তু চিন ও রাশিয়ার সরাসরি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হুমকি বলে মনে হয়েছে।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও