ইরানের বিক্ষোভ : সরকার পতন কি সময়ের অপেক্ষা?

ঢাকা পোষ্ট ইরান প্রশান্ত কুমার শীল প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯

আবারও উত্তাল ইরান। রাস্তায় নেমেছে মানুষ। আগুন শুধু টায়ারে নয়—জ্বলছে ক্ষোভ, হতাশা আর দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা আর্তনাদে। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি আরেকটি ক্ষণস্থায়ী গণজাগরণ, নাকি ১৯৭৯–এর পর ইরান নতুন কোনো বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে? সরকার পতন কি কেবল সময়ের ব্যাপার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ইরানের ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজের গভীরে জমে থাকা ক্ষতগুলো একসঙ্গে দেখতে হবে।


১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবে কোনো জেন-জি আন্দোলন ছিল না। সেটি ছিল শাহ রেজা পাহলভির স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক বিশাল সামাজিক বিস্ফোরণ। আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে সেই বিপ্লব রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।


বিপ্লবের ভাষা ছিল ইসলামি, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা ছিল মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও আত্মপরিচয়ের। চার দশক পর আজ যে ইরানের জনগণ রাস্তায় নেমেছে, তার ভাষা ভিন্ন, দাবিও ভিন্ন। আজকের আন্দোলনের মুখে জেন-জি তরুণ-তরুণী, নারীরা, শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত। যারা ধর্মীয় শাসনের নামে চাপিয়ে দেওয়া বিধিনিষেধ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় দমননীতিতে ক্লান্ত। এসব অনিয়মকে তারা বিদায় দিতে চাই।


ইরানে যে বিক্ষোভ ঘুরেফিরে দেখা দেয়, তা কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফল। নিষেধাজ্ঞা যেমন অর্থনীতিকে চেপে ধরেছে, তেমনি রাষ্ট্র সেই চাপ সামলাতে গিয়ে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে সমাজের ওপর। ফলাফল একটাই জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের দূরত্ব বেড়েছে বহুগুণ।


২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সূত্রপাত হয়েছিল ব্যবসায়ী ও বাজারের দোকানিদের ধর্মঘট থেকে। হঠাৎ করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে ঠেকেছিল। মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কায় ইরানের রিয়ালের মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশে। এই দৃশ্য নতুন নয়।


২০০৮ সালে মূল্য সংযোজন কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর তেহরানের বাজার এলাকাগুলোয় বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। সেবার সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। ২০১০ সালে আয়করের হার ৭০ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগও জনরোষে থেমে যায়। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ইস্যুতে ইরানের জনগণ বরাবরই প্রতিবাদী ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক দাবির সঙ্গে ইরানে সব সময়ই জুড়ে গেছে সামাজিক স্বাধীনতার প্রশ্ন।


বাধ্যতামূলক হিজাব আইন তার বড় উদাহরণ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যু সেই ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করে। হিজাব না পরার অভিযোগে আটক এক তরুণীর হেফাজতে মৃত্যু ইরানের সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্র যখন দায় স্বীকার না করে উল্টো ভুক্তভোগীকেই দায়ী করতে চায়, তখন ক্ষোভ দাবানলে রূপ নেয়। শত শত প্রাণ ঝরলেও সেই ক্ষোভ নিভে যায়নি, কেবল চাপা পড়েছিল।


এই দীর্ঘ সময়ে কোনো সরকারই মৌলিক সংস্কার আনতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি তেল নির্ভরতা কমানোর কথা বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার কৌশল দিয়েছিলেন। কিন্তু পারমাণবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ সেই প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দেয়।


মাহমুদ আহমাদিনেজাদের জনতাবাদী ‘তেল থেকে নগদ’ নীতিও ব্যর্থ হয়। একদিকে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর বাধা, অন্যদিকে জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞা কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৬৯৬ থেকে ১৯২৯ পর্যন্ত একটির পর একটি প্রস্তাব ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেয়। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা যোগ হয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে তেহরানের জন্য।


তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায় কার? নিষেধাজ্ঞা, না শাসনব্যবস্থা? বাস্তবতা হলো, দুটোই। ইরানের অর্থনীতি বহুদিন ধরে কাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত। বিপ্লবী আদর্শ ও তার ব্যয়ের পেছনে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়নি। আর্থিক ও অর্থনৈতিক আইনকানুন বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে ইরান ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আর নিষেধাজ্ঞার আঘাত আরও গভীর হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও