ট্রাম্পের নতুন ভিসা নীতি এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের শঙ্কা

যুগান্তর আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১

আমেরিকান সৈন্যরা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে আনার দুই দিনের মধ্যে তাকে নিউইয়র্কের এক আদালতে তুলেছেন। সভ্য জগতের সব আইনকানুন, রীতিনীতি ভেঙে স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে অপহরণ, হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নেওয়া এবং একইভাবে আদালতে হাজির করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজকের লেখার বিষয়বস্তু এটাই হতে পারত। কিন্তু চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সমূহ বিপদের কারণ হতে যাচ্ছে বিবেচনা করে বিষয় দুটির ওপর আলোকপাত করা জরুরি বলে মনে করছি।


গত জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি তার প্রথম দিনে স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন করা সংক্রান্ত আদেশেও স্বাক্ষর করেছিলেন। আদেশটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অভিবাসনবিষয়ক সবকিছুর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীনস্থ বিভাগগুলো অবিলম্বে আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মাঠে নেমেছে। অবৈধ অভিবাসীদের আটক এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ডিটেনশন সেন্টারে আটক রেখে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালনকারী হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এ বিভাগটির নাম ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা সংক্ষেপে ‘আইস’, যা বৈধ ও অবৈধ নির্বিশেষে সব অভিবাসী কমিউনিটির কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক ও দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিনকার্ডধারীদের একটি বড় অংশ, যারা তাদের গ্রিনকার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজেরাই সন্দিহান, তারাও ‘আইসে’র হাতে ধরা পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কায় রয়েছেন। যারা আমেরিকান নাগরিকদের বিয়ে করে গ্রিনকার্ড পেয়েছেন এবং এ ক্যাটাগরিতে বৈধতা লাভের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সংশয় আরও বেশি।


ট্রাম্প প্রশাসন গত এক বছরে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। এছাড়া ‘আইসে’র হাতে আটক হওয়ার পরিবর্তে অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে চলে গেলে তাদের পরিবহণ ব্যয় বহন করা ছাড়াও নগদ ১,০০০ ডলার প্রণোদনা দানের যে ঘোষণা প্রশাসন দিয়েছিল, তাতে সাড়া দিয়ে গত জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১৯ লাখ অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছে। অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর ২৫ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ট্রিসিয়া ম্যাকলোগলিন গত মাসে (ডিসেম্বর ২০২৫) বলেছেন, ‘অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় গত এক বছরে সর্বাধিকসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বেচ্ছায় বিদায় নিয়েছে এবং বহিষ্কৃত হয়েছে। তারা আমাদের বার্তা উপলব্ধি করেছে। এখন তারা জানে, তারা যদি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ না করে, তাহলে আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং বহিষ্কার করব, তাদের আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।’


অবৈধ অভিবাসী আটকের অভিযান যখন প্রথম শুরু হয়, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গুরুত্বের সঙ্গে বলেছিলেন, তাদের মূল টার্গেট অভিবাসীদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী অথবা অপরাধকর্মে অভিযুক্তদের বহিষ্কার করা। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক বছরে ‘আইসে’র হাতে আটক হয়ে যেসব অভিবাসী বহিষ্কৃত হয়েছে, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ নেই। বহু বৈধ অভিবাসী, যাদের ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড রয়েছে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হয়েছেন এমন বিদেশি ছাত্র, এমনকি কিছুসংখ্যক গ্রিনকার্ডধারীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা ছাড়াই ‘আইস’ তাদের আটক করে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। ‘আইস’ তার অবৈধ অভিবাসী আটক ও তল্লাশি অভিযানের আওতা সম্প্রসারণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের যে ইঙ্গিত ইতোমধ্যে পেয়েছে, তা বাংলাদেশি ছাড়া আরও কিছু দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ট্রাম্প স্বয়ং তার নিজস্ব মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বিষয়টি উপস্থাপন করায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে অভিবাসন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করছেন, এমন অভিবাসীদের ওপর ‘আইস’ খড়গহস্ত হতে যাচ্ছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৪ জানুয়ারি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিশ্বের বহু দেশের অভিবাসীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন, যারা বিভিন্ন ধরনের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের তহবিল থেকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক সহায়তা নিয়েছেন, যার মধ্যে চিকিৎসা, শিশু পরিচর্যা, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতাজনিত সহায়তা এবং বার্ধক্যকালীন সেবাও অন্তর্ভুক্ত। এ তালিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ৫৪.৮ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, ভুটান, চীন ও নেপালের নামও ট্রাম্পের তালিকায় আছে। তবে বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের নাম তালিকায় নেই। এ তালিকায় ভারতের না থাকার কারণ সম্পর্কে অভিবাসন প্রবক্তাদের বক্তব্য হলো, ভারতের অধিকাংশ অভিবাসী বড় বড় কোম্পানি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে উচ্চ বেতনে কর্মরত। ‘অড জব’ বা অপেশাদার কাজে ভারতীয় অভিবাসীর সংখ্যা হাতেগোনা। কল্যাণ ও সেবামূলক রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণকারী বাংলাদেশি অভিবাসীদের চেয়েও অধিক হারে এসব ভাতা গ্রহণকারী দেশ রয়েছে। কিন্তু শুধু পাকিস্তান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ওইসব দেশের অভিবাসীর সংখ্যা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। ট্রাম্পের তালিকায় ভাতা গ্রহণে শীর্ষে রয়েছে ভুটানি অভিবাসীরা, যাদের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে মোট ভুটানি সংখ্যার ৮১.৪ শতাংশ। এছাড়া আফগানিস্তানের ৬৮.১ শতাংশ, মিয়ানমারের (রোহিঙ্গা) ৬৯.২ শতাংশ, পাকিস্তানের ৪০.২ শতাংশ, নেপালের ৩৪.৮ শতাংশ এবং চীনের ৩২.৯ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈধ-অবৈধ মিলে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ, যারা যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের মধ্যে ১২তম বৃহত্তম জনগোষ্ঠী।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও