জনদুর্ভোগ নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

প্রথম আলো সম্পাদকীয় প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩

পাইপলাইনের গ্যাস–সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর রান্নার কাজে বিকল্প হয়ে উঠেছে এলপিজি। এই গ্যাস এখন সাধারণ মানুষের কাছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজি নিয়ে দেশে যে অস্থিরতা চলছে, তা কেবল অনভিপ্রেতই নয়; চরম উদ্বেগজনকও বটে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া কিংবা চড়া দাম দিয়েও বাজারে গ্যাস না পাওয়ার ঘটনা বাজার ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতাকেই সামনে আনে।


এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট বিইআরসির আশ্বাসে প্রত্যাহার করা হলেও বাজারে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি। ধর্মঘট প্রত্যাহারের আগে ব্যবসায়ীরা অভিযান বন্ধ এবং কমিশন বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন, কিন্তু সাধারণ ভোক্তার পকেট কাটার যে উৎসব চলছে, তা বন্ধের বিষয়ে কোনো কার্যকর অঙ্গীকার মেলেনি। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই চেইন অব কমান্ডের গলদ কোথায়, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।


দেরিতে হলেও জ্বালানি বিভাগ সংকট কাটাতে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব, এলসি সহজীকরণ এবং আমদানির সীমা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো ইতিবাচক। বিশেষ করে আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব যদি কার্যকর হয়, এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে আসার কথা। কিন্তু সমস্যা হলো, আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করবে? খুচরা পর্যায়ে ডিলার ও বিক্রেতারা বিইআরসির নির্ধারিত দরের তোয়াক্কা করছেন না। প্রশাসনের অভিযানে জেল-জরিমানা হলেও বাজারের মূল সমস্যা ‘সরবরাহ ঘাটতি’ রয়েই গেছে।


যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বাণিজ্যযুদ্ধকে ঘিরে এলপিজি পরিবহনে সংকট বা আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। সরকারি–বেসরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ–সংক্রান্ত করণীয় খুঁজে বের করতে হবে।


বাংলাদেশে এলপিজির বড় কোনো মজুত নেই। বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার অজুহাতে আমদানিকারকেরা বড় আকারে মজুত করতে চান না। ফলে সরবরাহব্যবস্থায় সামান্য টান পড়লেই সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের জ্বালানি খাতের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ের লাগাম পুরোপুরি মুষ্টিমেয় বেসরকারি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া কতটা নিরাপদ, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। সরকারি কোম্পানি এলপিজিএলের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে আপৎকালীন মজুত বা বাফার স্টক গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও