তরুণদের স্বপ্নের আসন থেকে কোন পথে এনসিপি

www.ajkerpatrika.com কামরুল হাসান‌ প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮

নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে ‘মতান্তরের জেরে’ তরুণদের স্বপ্নের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সামনের সারির বেশ কয়েকজন নেতা। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ পদত্যাগ করলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা। এ নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন এই দলটি থেকে গত বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন নেতার পদত্যাগের ঘোষণা এল। এর বাইরে আরও পাঁচজন নেতা আছেন যাঁরা নির্বাচনী রাজনীতিতে ‘নিষ্ক্রিয় থাকার’ আগাম ঘোষণাও দিয়েছেন।


এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা আসে গত ২৮ ডিসেম্বর। সেই সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই দল ছাড়ার ঘোষণা দেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসনিম জারা। তিনি অবশ্য সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাকে তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখাননি। জারার পরপরই পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। এরপর একে একে দল ছাড়েন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, সদস্য আসিফ নেহাল (আসিফ মোস্তফা জামাল), মীর হাবীব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, আল আমিন টুটুল, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এবং আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া।

নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং এর দেড় দশক পরের ওয়ান-ইলেভেনের আবহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সংস্কার’ শব্দটি আগেও বহুবার উচ্চারিত হয়েছে। এবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন করে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে সংস্কার। দেশ যাতে কিছুতেই আবার আগের মতো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কবলে না পড়ে, সে জন্য সংস্কার হয়ে ওঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মূলমন্ত্র।

শুরুতে সরকারের পেছনের বড় শক্তি তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও বড় ধরনের সংস্কারের দাবিতে ছিল সোচ্চার। তারপর সংস্কারবিষয়ক কথাবার্তা দেশের বহু মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। ঘুরেফিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি আর তাদের সঙ্গে কায়দামতো জুড়ে থাকা জামায়াত ও জাতীয় পার্টির চেনা রাজনৈতিক ছকের বাইরে গিয়ে মধ্যপন্থী, আধুনিক ও নাগরিককেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল দলটি। শহুরে শিক্ষিত তরুণ, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং প্রচলিত রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে এনসিপির দিকে তাকিয়েছিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে।


কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এনসিপিকে ঘিরে সেই সম্ভাবনার জায়গাটি দৃশ্যত গভীর সংকটে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক বিতর্ক ও দলীয় আদর্শসহ বিভিন্ন কারণে। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপিকে বড় আদর্শিক পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর দলটির ভেতরে যে ভাঙন, অনাস্থা ও হতাশা তৈরি হয়েছে, তা কেবল কয়েকজন নেতার


পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি এনসিপির রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।


তবে শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তই যে এনসিপিকে এই নাজুক অবস্থায় নিয়ে এসেছে, তা নয়। মূলত দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোনো কোনো নেতার আলটপকা মন্তব্য, অন্য দল বা ব্যক্তির প্রতি অকারণ কঠোরতার প্রকাশ, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা নিয়োগ-বাণিজ্যের মতো অভিযোগ এবং স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নির্ণয়ে ‘দোদুল্যমানতা’সহ নানা কারণে অনেকেই দলটির প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরের দিকে তাদের ডাকা সমাবেশেও জনগণের তত বেশি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। এনসিপি এত দিন পরিবর্তনের কথা বললেও তারা পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতোই গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছে। এমন অবস্থায় জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে শরিক হওয়ার ঘোষণা দলে কার্যত ভাঙন ডেকে আনার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে এনসিপির নারীনেত্রীরা বেশ হতাশ বলেই মনে হচ্ছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছিল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সেখানে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলেনি। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে বিকল্প জোট গঠনের চিন্তাও করেছিল দলটি। সেই প্রচেষ্টায় প্রথমে গণতন্ত্র মঞ্চকে যুক্ত করার চেষ্টা হয়। পরে এনসিপি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠিত হয়। এর আত্মপ্রকাশ ঘটে গত ৭ ডিসেম্বর। কিন্তু আসনের বাস্তব হিসাব-নিকাশে এসে সেই জোট দ্রুতই ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেলে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়।


এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নীলিমা দোলা বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্তের পর দলটির পক্ষে আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এনসিপি এখন স্পষ্টভাবেই ডানপন্থী ধারায় প্রবেশ করছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও