ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান

প্রথম আলো স্টিফেন কলিনসন প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭

ভেনেজুয়েলার ‘ঘৃণিত শাসনব্যবস্থা’র প্রধানকে অপসারণের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তাঁর একবিংশ শতাব্দীর সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রকল্পের জন্য নতুন ভূখণ্ড খুঁজছেন।


প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহকে অনেকেই ঠাট্টা হিসেবে দেখেছিলেন। এটি ছিল এমন এক প্রেসিডেন্টের আরেকটি বেপরোয়া উচ্চারণ, যিনি মানুষকে চমকে দিতে ভালোবাসেন।


এমনকি গত বছরও, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তাঁর বাবার বিমানে করে বিশাল দ্বীপটিতে যান এবং পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ক্ষণিক সফরে সেখানে হাজির হন, তখনো বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা তামাশা হয়েছে। কিন্তু এখন আর কেউ হাসছে না।


ইউরোপীয় নেতারা (যারা মঙ্গলবার গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডের ওপর তাদের দাবিকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন) ট্রাম্পের হুমকিকে এখন গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন।


এটি আশ্চর্যের নয়। কারণ ভেনেজুয়েলায় ‘সাফল্য’-এর পর আত্মম্ভরিতায় ভর করে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পুরো পশ্চিম গোলার্ধকেই কার্যত নিজের এলাকা বলে দাবি করছে।


ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী স্টিফেন মিলার সোমবার সিএনএন-এ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বিশ্বব্যবস্থার ‘লৌহকঠোর আইন’ অনুসরণ করছে, যা শক্তি, বলপ্রয়োগ ও ক্ষমতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।


ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার।


ট্রাম্পের প্রকাশ্য যুক্তি—জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতেই হবে, যদিও প্রথম থেকেই সে যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য ছিল না।


আর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস যখন উৎকণ্ঠিত ন্যাটো মিত্রদের সামনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন এই যুক্তি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।


এক কৌশলগত রত্ন


প্রেসিডেন্ট তাঁর জায়গা থেকে ঠিকই বলেছেন। কারণ গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরও বাড়ছে।


ইতিহাসজুড়েই গ্রিনল্যান্ড মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবিন্দু ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘গ্রিনল্যান্ড এয়ার গ্যাপ’ নামে পরিচিত সমুদ্রপথ (যা স্থলভিত্তিক বিমানের আওতার বাইরে ছিল) নাৎসি সাবমেরিনগুলোর জন্য মিত্রশক্তির বাণিজ্যিক কনভয় ধ্বংসের এক ভয়ংকর হত্যাক্ষেত্রে পরিণত হয়।


ভবিষ্যতে কোনো বড় যুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ মানেই আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কর্তৃত্ব। আর সেখানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আট দশক পর, বরফ গলে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ড এখন ভূরাজনৈতিকভাবেও ‘উষ্ণ’ হয়ে উঠছে। বিশ্বের ছাদের ওপর নতুন নৌপথ খুলে যাচ্ছে।


চীন ও রাশিয়াও ট্রাম্পের মতোই জানে এই দ্বীপটি কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার। কিন্তু বাস্তবে যদি সত্যিই নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে, তাহলে গ্রিনল্যান্ড দখল না করেও যুক্তরাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।


কারণ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন হলেও সেটি ন্যাটোরই একটি অংশ, আর ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও