নির্বাচনি সমঝোতায় এনসিপিতে ‘আদর্শ বনাম কৌশলের দ্বন্দ্ব’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন এ দলটির এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে অসন্তোষ ও বিভাজন। দেখা দিয়েছে আদর্শ ও কৌশলের দ্বন্দ্ব।
অসন্তোষ-দ্বন্দ্ব থেকে এরই মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন অন্তত ১৫ জন নেতা। দলটির নেতাদের একাংশ মনে করছে, নিজেদের মধ্যমপন্থার নতুন দলটির দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা ও নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার ভালো একটি উপলক্ষ ছিল সংসদ নির্বাচন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক হতাশ।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এনসিপির যাত্রার শুরুতে নিজেদের একটি মধ্যপন্থি ও নাগরিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক ‘জোট’ রাজনীতির মাধ্যমে দলটি ক্রমশ ডানপন্থি রাজনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকে পড়ছে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ ক্ষোভের জন্ম। পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে এসে এনসিপি এখন এমন একটি রাজনৈতিক পথে হাঁটছে, যা দলের প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষিত দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এনসিপির একাধিক সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, দলের নেতৃত্ব জোট গঠনের বিষয়ে তৃণমূল কিংবা মধ্যম সারির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। বরং শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দলীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থি। তাদের মতে, ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জোটের আদলে সমঝোতা এনসিপির নাগরিক ও মধ্যমপন্থি ভোটব্যাংকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।