নির্বাচন : নিরাপত্তার জায়গাটি নিশ্চিত করা জরুরি

যুগান্তর জাহেদ উর রহমান প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩

নির্বাচনের বিষয়ে প্রথমেই বলি, একটা অনিশ্চয়তা ছিল। ফ্যাক্ট হলো, এতদিন পরে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু সেটা নিয়ে মাঠে খুব বেশি আলাপ-আলোচনা ছিল না। ডাকসু নির্বাচনে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ভোটার, সেখানে যে পরিমাণ হাইপ দেখা গেছে; সে তুলনায় জাতীয় নির্বাচনের মতো এত বড় বিষয়ে তফসিলের আগে বা পরেও সেই অর্থে কোনো হাইপ দেখা যায়নি। নানারকম ইস্যু মাঠে এসে হাজির হলো। কেউ বললেন, সরকারকে পাঁচ বছর থাকতে হবে; কেউ বললেন, সংস্কার না হলে নির্বাচন হতে দেব না। কোনো রাজনৈতিক দল আবার বলল, সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব না হলে তারা নির্বাচনে আসবে না। আবার ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হবে কী হবে না-এমন অজস্র ইস্যু আসতে থাকায় মানুষের মনে প্রশ্ন জাগল, নির্বাচন কি আদৌ হবে?


বিএনপির ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি ছিল। ৫ আগস্টের পর থেকেই আলোচনা চলছিল, তারেক রহমান কেন দেশে ফিরছেন না। পরবর্তী সময়ে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসটি বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিল। প্রশ্ন উঠল-তিনি কি নিজের সিদ্ধান্তে দেশে ফিরতে পারছেন না? তবে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ছিল, সেটা এখন কেটে গেছে। আমি নিজেও কনফিডেন্ট ছিলাম, কারণ নির্বাচন ছাড়া আসলে কোনো বিকল্প নেই।


তবে বড় প্রশ্ন হলো-নির্বাচনের কোয়ালিটি কেমন হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো তাদের স্বাভাবিক বেসিক কাজগুলো ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারছে না। এই অদক্ষতা নিয়ে ৩০০ আসনে একসঙ্গে নির্বাচন হলে সংঘাত কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটি ভাববার বিষয়।


অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রশ্নে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ না থাকলেও এই নির্বাচনকে সবাই অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসাবে মেনে নেবে। কারণ, আইনগতভাবে তারা এখন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না এবং গত জুলাইয়ে তারা যে বিপর্যয় ঘটিয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে তাদের অনুপস্থিতি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।


আসল কথা হলো-প্রার্থীরা কোনো চাপের মুখোমুখি না হয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে অংশ নিতে পারবেন কিনা এবং ভোটাররা সব ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভোট দিতে পারবেন কিনা। প্রশাসন যখন ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারে না এবং বিশেষ কোনো দলের প্রতি (যেমন বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসতে পারে) তাদের অ্যালাইনমেন্ট দেখায়, তখন অন্যদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।


একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকার প্রার্থীদের গানম্যান দিতে চাইছে এবং অস্ত্রের লাইসেন্স সহজ করছে। এটি ভোটারদের মনে অভয় দেওয়ার বদলে উলটো ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করবে। গানম্যান নিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া বা অস্ত্র রাখা নিয়ে ভিন্ন বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু এটি প্রার্থীর সঙ্গে থাকা মানেই হলো পরিবেশ স্বাভাবিক নেই। ২২ জানুয়ারি থেকে যখন সব পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামবে, তখন মিছিল বা পালটাপালটি কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকবে। সে সময় যদি সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া না যায়, তাহলে ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। যদিও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে কিছু সংশয় আছে, তবে আমি বিশ্বাস করি, বহু বছর পর একটি সত্যিকারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে আমরা এসব কাটিয়ে উঠতে পারব।


মিডিয়া হাউজে হামলার প্রসঙ্গে বলি-ডেইলি স্টার বা প্রথম আলোর কার্যালয়ে যখন হামলা হলো, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেশের নামকরা মিডিয়া হাউজ পুড়িয়ে দেওয়া হলো অথচ কোনো প্রতিকার পাওয়া গেল না-এগুলো মানুষের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে মানুষ এখন খুব বেশি রিলাই করে না, কারণ ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ১ ও ২-এর কোনো সুফল দেখা যায়নি। সরকার যদি আস্থা ফেরাতে চায়, তাহলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে দৃষ্টান্ত দেখাতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও