পুতুল থেকে দেশমাতা হয়ে ওঠার গল্প

যুগান্তর অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫

বাংলাদেশের আকাশ কদিন থেকেই ধূসর। সূর্যের দেখা নেই চার-পাঁচ দিন। এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে তখন গভীর রাতের নিস্তব্ধতা, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কোণার বেডটা আলো-আঁধারির মায়ার খেলায় এক অপার্থিব পবিত্রতায় জড়ানো। শৈশব থেকে প্রৌঢ়তার সব স্মৃতি যেন আজ প্রকাশিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় অস্থির। মনিটরের সবুজ রেখাগুলো আজ সকাল থেকেই বারবার এলোমেলো। মনিটরের অ্যালার্ম বারবার জানান দিচ্ছে, সময় আর বেশি নেই। শীতের তীব্রতায় অসার করা ভোঁতা অনুভূতিগুলো বুঝতেও পারছে না, কী মর্মান্তিক সত্যি গুটিসুটি মেরে এগিয়ে আসছে এক ভয়ানক খবর হয়ে।


দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ির তৈয়বা ভিলার সামনের ছোট্ট সবুজ লনে এক্কা-দোক্কা খেলা কিশোরী পুতুলের জীবনের বর্ণিল আটটা দশক পেরিয়ে আজ অসার শুয়ে আইসিইউর কোণার বিছানায়।


দিনাজপুরে কর্মরত কেতাদুরস্ত ক্যাপ্টেন জিয়ার চোখে এমন গভীরভাবে আটকে যাবেন কে জানত। স্কুলের গণ্ডি পেরোতে না পেরোতেই বন্দি লাল বেনারসিতে।


১৯৬৫ তে যুদ্ধ শুরু ভারত-পাকিস্তানের। কিসের যুদ্ধ আর কেনই বা যুদ্ধ, সেটা তেমন না বুঝলেও পশ্চিম পাকিস্তানের সেনা কোয়ার্টারে যুদ্ধের পুরোটা সময় একাকী কাটিয়েছেন যুদ্ধে যাওয়া স্বামীর মঙ্গল কামনায়।


ভীষণ রাশভারি, স্বল্পভাষী স্বামী, ভালোবাসার উচ্চারণে প্রগলভ নয়, কিন্তু ভীষণ অন্তর ছোঁয়া। সংসারে নেই কোনো বাহুল্য আর প্রাচুর্যের ছোঁয়া, শুধু আছে সততা আর ভালোবাসার গর্ব।


দিনাজপুরের ছোট্ট বাড়িটা বারবার হাতছানি দেয় হাজার মাইল দূর থেকে। আকাঙ্ক্ষার বদলির খবরে আকাশছোঁয়া আনন্দ নিয়ে হঠাৎই জন্মভূমিতে ফেরত। ততদিনে কোলজোড়া তারেক-আদরের ছোট্ট পিনো আর পরপরই আরেক ছোট্ট সোনা আরাফাত, দুটোই স্বামীর দেওয়া পছন্দের নাম।


সবাই তখন চট্টগ্রামে, একাত্তরের শুরু দেশজুড়ে আন্দোলন দিয়ে। স্বামী তখন তরুণ মেজর, সারা দেশের মতো বাড়ির আবহাওয়াও বেজায় থমথমে।


পঁচিশে মার্চের বিকালে তখন, হন্তদন্ত হয়ে বাসায় স্বামীর খোঁজে তার ইউনিটের এক সৈনিক। বাসায় নেই শুনে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎই কৌতূহলী প্রশ্ন, কী হয়েছে? ‘ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানি অফিসার এসেছে আমাদের সব অস্ত্র নিয়ে যেতে, সেটাই জানাতে।’ এসব বিষয়ে কোনো দিনই নাক না গলানো খালেদা হঠাৎই নিজের অজান্তেই বলে ফেললেন, ‘স্যারকে না বলে ওগুলো দেবেন না।’ সেদিন পাকিস্তানিরা অস্ত্রগুলো নিতে পারেনি।


সে রাতে স্বামী ঘরে ফেরেননি। খবর পেলেন, সারা দেশে পাকিস্তানিরা আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিরীহ দেশবাসীর ওপর, শুরু হয়েছে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। শুনলেন রেজিমেন্টে বিদ্রোহ হয়েছে, নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারই স্বামী।


পরদিন রেডিওতে শুনলেন তার স্বামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এত কাছে থেকেও জানতে পারেননি যে মানুষটা এমন কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একদিকে গর্ব হচ্ছে অকল্পনীয়, আবার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়ে-আতঙ্কে শিউরে উঠছেন। এখন আর ফেরার পথ নেই, পরাজয় মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। হালকা অভিমান মনের কোণায় এলেও সামাল দিলেন। একবার বলে গেলে কী হতো? তারেক-আরাফাত তখন গভীর ঘুমে। মাসের শেষ, হাতে তেমন টাকাও নেই। খবর পাচ্ছিলেন, স্বামীর বাহিনী কালুরঘাটে লড়ছেন শত্রুর বিরুদ্ধে।


মেজর জিয়া তখন সারা দেশে সবচেয়ে পরিচিত নাম, আর সঙ্গে সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষ হলো এ তিনজন। যাদের দুজনের বিপদ কাকে বলে বোঝার ক্ষমতাই নেই আর আরেক তরুণী সেই দুই ছোট্ট শিশুদের নিয়ে পরিজন থেকে শত মাইল দূরে। আর এটাও বুঝতে পারলেন, একমাত্র দেশ স্বাধীন হলেই স্বামীর দেখা পাবেন, নইলে আর কোনোদিনই নয়।


শুরু হলো গন্তব্যহীন অজানা যাত্রার, আজ এখানে তো, কাল আরেক জায়গায়। এভাবে আর কতদিন, জুলাইয়ে একদিন ধরা পড়লেন পাকিস্তানিদের হাতে, সবাই একসঙ্গে। ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি রইলেন দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ডিসেম্বরের বিজয় অবধি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও