আপদমুক্ত শীতের জন্য প্রার্থনা

প্রথম আলো গওহার নঈম ওয়ারা প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৮

বাংলাদেশের শীতের জন্য উত্তরের পাখিরা মুখিয়ে থাকে। সাইবেরিয়ার যম ঠান্ডা থেকে অনেক অনেক কম ঠান্ডার সন্ধানে তারা চলে আসে। ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়, তারপর আবার ফিরে যায়। তত দিনে সেখানকার যম ঠান্ডা ফিকে হয়ে আসে। যম ঠান্ডা থেকে বাঁচতে এ দেশে এসে কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতার সঙ্গে সঙ্গে পাখিরা পায় অঢেল খাবার। খালবিল তাদের পানি কমিয়ে মাছ সহজলভ্য করে তোলে। অগ্রহায়ণে ধান কাটার পর মাঠেও মেলে ছিটিয়ে থাকা ধান।


পাখিদের মতো অভিবাসী (রেমিট্যান্স সৈনিক ছাড়া) দেশি মানুষদের অনেকে শীতের ছুটিতে দেশে আসার টিকিট কাটে। ঝড়বৃষ্টি আর ‘অসহ্য গরম’মুক্ত বাংলাদেশ দেখে যান বছরে পাঁচ বছরে একবার। তাঁদেরও অনেকে চিকন কটাক্ষ করে ‘শীতের পাখি’ ডাকেন। পিঠা উৎসব, পুষ্প প্রদর্শনী ইত্যাদি নানা উপচারে উপচে পড়ে মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের আনন্দের ডালি। শীত এলেই অনেকে বুঝতে পারেন শরীরে মেদ জমেছে, আগের কোটের বোতাম লাগছে না। সোয়েটার ফাঁস করে দিচ্ছে ভুঁড়ির অবস্থান।


কিন্তু নানা সবজিতে সাজানো শীতটা সবার জন্য সুখের বার্তা নিয়ে আসে না। অনেক পীড়িত প্রবীণ শীতে আর ‘টিকতে’ পারেন না। নবজাতক আর হাঁটতে শেখা শিশুদের টিকে থাকাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। লঞ্চ দুর্ঘটনা, অগ্নিদুর্ঘটনার খবরে সয়লাব হয়ে যায় গণমাধ্যম। প্রান্তিক শিশুরা মায়ের আঁচলের উষ্ণতা আর গরম ভাত ফেলে চলে যায় ভাতের খোঁজে ইটভাটায়, শুঁটকিপল্লিতে। কেউ ফেরে আর কেউ ফেরে না।


শীতের সঙ্গে সঙ্গে মন খারাপ করা নানা খবর আসতে থাকে চারদিক থেকে। ঘন কুয়াশায় লঞ্চের সঙ্গে লঞ্চের সংঘর্ষ, বাল্কহেডের সঙ্গে অন্যান্য জলযানের সংঘর্ষ, যাত্রীবাহী জলযানের দিক হারানো, ফেরি চলাচল বন্ধ; আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে স্থবিরতা এসব খবরের পাশাপাশি আসতে থাকে আগুন পোহাতে গিয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর। এদের অধিকাংশ থাকে প্রবীণ নারী অথবা শিশু। এবার শীতের শুরুতেই নিজের বিছানায় পুড়ে মারা গেলেন প্রবীণ কামরুন নাহার (৮৫)। তিনি তাঁর ঘরে একাই থাকতেন। শীত তাড়াতে ঘরে মাটির মালসায় জ্বালানো আগুন থেকেই এই শরীরপোড়া আগুনের সূত্রপাত।


শরীয়তপুরের সদরে রুদ্রকর ইউনিয়নের রুদ্রকর এলাকার এ ঘটনা আরও অনেক জায়গায় ঘটেছে ঘটতে পারে। গত শীতে সারা দেশে এ রকম একা প্রবীণার আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল মোট ২৪টি। এটা শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মৃতদের খবরের হিসাব। অনেকেই আগুনে পুড়ে হাসপাতালে আসেন, বেঁচে যান কেউ কেউ। সেগুলো আর খবর হয় না। বার্ন ইউনিটে রোগীর চাপ সারা বছরই থাকে, তবে শীতে চাপ থাকে বেশি। এ জন্য প্রস্তুতিও নিতে হয় আলাদা করে। ২০২৩ সালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সেবা নেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৬২৫। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ রোগীই ছিলেন শীতকালের (অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ)।


বার্ন ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে বেশি পুড়ছেন নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। শাড়িতে আগুন লাগার মুহূর্তে টের পাওয়া যায় না। যতক্ষণে পাওয়া যায়, ততক্ষণে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে চাদর বা কম্বলে আগুন লাগে। অন্যদিকে গরম পানিতে শিশুরা পুড়ছে বেশি। বিষয়টি নিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি প্রকল্পগুলোর তদানীন্তন সমন্বয়কারী অধ্যাপক সামন্তলাল সেনকে সেই বছর প্রশ্ন করলে, তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা ও কেস স্টোরির আলোকে জানিয়েছিলেন, গোসল করার সময় গরম পানি পাতিলে করে গোসলখানায় নিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ পানি বালতিতে করে নিয়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না।


ডায়রিয়া আর শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় শিশুরা ভুগছে বেশি


শীতে শিশুরা ডায়রিয়া ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত সমস্যা সর্দিকাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, গলাব্যথা, টনসিলাইটিস, সাইনোসাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিসে প্রভৃতি রোগে ভুগে থাকে। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি।  সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখার তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৯ হাজার ৪২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি রোগীর মধ্যে ৫৫ হাজার ৬৮৩ জন ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে আসেন। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৭৪৬ জন।


দেশের কোন অঞ্চলে সংকট বেশি


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও চাঁদপুর—এই ছয় জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে নরসিংদীতে, ৪ হাজার ১৩৯ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৯৩ জন, কক্সবাজারে ১ হাজার ১৩৯ জন, সিলেটে ১ হাজার ১৩৪ জন এবং চাঁদপুরে ৭৫৭ জন।


ডায়রিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৭ জন। এরপর চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৮৬০ জন, কক্সবাজারে ৩ হাজার ২৮২ জন, নরসিংদীতে ২ হাজার ৩৩৯ জন এবং সিলেটে ২ হাজার ২০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও