শান্তি, সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষা

জাগো নিউজ ২৪ ড. মতিউর রহমান প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৩

২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারির ভোরের সূর্য যখন বাংলার দিগন্তে উদিত হচ্ছে, তখন তা কেবল একটি নতুন পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা করছে না, বরং এক নতুন উদ্দীপনা ও গভীর আত্মবিশ্লেষণের বার্তা নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। একদিকে দেশ তার স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পূর্ণ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির এক চ্যালেঞ্জিং সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন বছরের এই আলোকচ্ছটা যেমন : সম্ভাবনা জাগানিয়া, তেমনই তা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সব অসমাপ্ত কাজের কথা, যা একটি সমৃদ্ধ ও সাম্যবাদী জাতি গঠনের জন্য অপরিহার্য। শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি জনপদে আজ একটিই প্রতিধ্বনি—শান্তি ও অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই পথ না হারায়।


২০২৬ সালের শুরুর দিনগুলোতে দেশের মানুষের মনে এক ধরনের দ্বৈত মনস্তত্ত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে নতুন শুরুর উদ্দীপনা, যা আমাদের উৎসবপ্রিয় জাতির মজ্জাগত। ঢাকার অভিজাত পাড়া থেকে শুরু করে মফস্বলের অলিগলি আজ উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত। তরুণরা স্মার্টফোনের পর্দায় নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করছে। কিন্তু এই উৎসবের আবহের সমান্তরালে বিরাজ করছে এক ধরনের সতর্ক ভাব। এটি সেই মানুষের সতর্কতা যারা বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তিত। ব্যক্তিগত উদ্বেগ আর জাতীয় আশাবাদ যখন একত্রে মিশে যায়, তখন ২০২৬ সালের চিত্রটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। এই নববর্ষ তাই কেবল স্রেফ উল্লাসের নয়, বরং এক গভীর দায়িত্ববোধের।


২০২৬ সালের নববর্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রধান কাম্য হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর মেরুদণ্ড হলো তার রাজনীতি। ২০২৬ সালটি জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষার বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশের, যেখানে সংলাপের জায়গা থাকবে এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া কেবল গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে না, বরং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের পরিবেশকেও উন্নত করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকলে উন্নয়নের যে চাকা সচল রয়েছে, তা আরও গতিশীল হবে। রাজনৈতিক স্থায়িত্বই পারে সাধারণ মানুষের মনে ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে।


২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু সুযোগ কমে গেলেও নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। তবে এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম উপেক্ষা করার মতো নয়। নতুন বছরে মানুষের বড় প্রত্যাশা হলো দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা। খাদ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৬ সালে সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার তদারকি জোরদার করা। অর্থনৈতিক অগ্রগতি তখনই সার্থক হবে, যখন তা সাধারণ মানুষের পাতে দু-মুঠো অন্ন নিশ্চিত করতে পারবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং কর সুবিধা প্রদান করা হলে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা দেশের প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই করবে।


বাংলাদেশের প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো তার বিপুল যুবসমাজ। ২০২৬ সালে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জনের সুবর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশ। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং উদ্ভাবনী চিন্তায় পারদর্শী। ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির যে বিকাশ গত কয়েক বছরে ঘটেছে, ২০২৬ সাল হবে তার পূর্ণতা পাওয়ার বছর। নতুন বছরে যুবসমাজের প্রত্যাশা হলো—ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী হতে চায় না, বরং তারা হতে চায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী। তবে এই অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হলো শিক্ষার গুণগত মানের অভাব। ২০২৬ সালে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক চাহিদার সাথে মিল রেখে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন এবং ডেটা সায়েন্সের মতো প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলাই হবে নতুন বছরের অন্যতম প্রধান জাতীয় লক্ষ্য।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও