রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে যেন একধরনের অস্থিরতা চলছে। ইতিমধ্যে চারবার তফসিল পুনর্বিন্যাস ও দুবার ভোট গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ছাত্রসংগঠনগুলোর ‘আবদার’ পূরণ করতেই বাধ্য হয়ে নির্বাচন কমিশন বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের একাংশ মনে করছেন।
সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারছে না নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থির থাকতে পারছে না। সাড়ে ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে নির্বাচনের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে দুবার তফসিল পুনর্বিন্যাস এবং ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার নির্বাচনের সময় পরিবর্তন ও দুবার তফসিল পুনর্বিন্যাস করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম তফসিল অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে আগের দিন মধ্যরাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ছাত্রনেতারা বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পরে ২০ আগস্ট বিকেলে রাকসুর নির্বাচনের সময় (১৫ সেপ্টেম্বর) অপরিবর্তিত রেখে নতুন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তারিখ জানায় নির্বাচন কমিশন। নতুন তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বিতরণ ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলার কথা ছিল ২৬ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে ২৬ আগস্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর বিভিন্ন দাবির বিষয়ে দুপুরে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভা বসে। বেলা দুইটায় শুরু হওয়া এ সভা চলে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। পরে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোসহ তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন হওয়ায় নির্বাচনের তারিখ পেছানো হবে কি না, সেই আলোচনা অব্যাহত ছিল।