You have reached your daily news limit

Please log in to continue


নির্বাচন দেরিতে হলে সমাজে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য বাড়বে

আলতাফ পারভেজ লেখক ও গবেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনঃপাঠ, বার্মা: জাতিগত সংঘাতের সাত দশক, শ্রীলঙ্কার তামিল ইলম, গ্রামসি ও তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা প্রভৃতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বই। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ শুনতে চাই?

আলতাফ পারভেজ: ছাত্র-শ্রমিক-সৈনিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় আট মাস হতে চলল। সময়ের হিসাবে এটা বেশি নয়। তবে ইতিমধ্যে পেরিয়ে আসা সময়ের কিছু মূল্যায়ন করাই যায়।

প্রথম যেটা মনে হয়, গত আগস্টে মানুষের মাঝে যে বিপুল প্রত্যাশা ছিল, সেটা এখন অনেকটা থিতিয়ে গেছে। কিছু গোষ্ঠী অভ্যুত্থানের মালিকানা থেকে গণমানুষের অংশীদারত্ব মুছে দিতে চাইছে। তারা অভ্যুত্থানের কর্তৃত্ব আত্মসাৎ করতে তৎপর হয়েছে এবং তাতে কিছুটা সফলও তারা। জাতীয় পর্যায়ের প্রচারমাধ্যমগুলোও ওই গোষ্ঠীর হয়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এ রকম গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটা মেলবন্ধন ঘটেছে। এ রকম হওয়ার পরও মানুষ বিক্ষুব্ধ হতো না—যদি অভ্যুত্থানের সরকার শ্রমিক, কৃষক ও শহুরে দরিদ্রদের অবস্থার পরিবর্তনে মৌলিক কিছু পদক্ষেপ নিতে পারত। সে রকম কিছু মোটাদাগে এখনো দেখা যায়নি।

অভ্যুত্থানকে আমরা বলেছিলাম বৈষম্যবিরোধী। সমাজে বৈষম্যের শিকার প্রধান গোষ্ঠীগুলো এখনো বৈষম্য নামের দানবের হাত থেকে তেমন রেহাই পায়নি। বৈষম্যের কাঠামোটা বেশ সবল ও সচলই আছে, গ্রাম-শহর মিলে।

আপনি বলতে চাইছেন বহুল আলোচিত সংস্কার কিছু হচ্ছে না?

আলতাফ পারভেজ: সংস্কার বিষয়ে কয়েকটি কমিশন হয়েছে। কমিশনগুলো প্রায় সবাই তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু মৌলিক ধাঁচের সংস্কারের জন্য যে জাতীয় ঐকমত্য দরকার, সেটা তো এখন আর নেই। সেটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ভেঙে ফেলা হয়েছে।

সংস্কার এমন একটা প্রস্তাব—যার বিরুদ্ধে এতদিনকার রাষ্ট্রীয় সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী বাধা দেবে। ফলে অভ্যুত্থান ও পরিবর্তনবাদী শক্তিগুলো একজোট না থাকলে সংস্কার করতে পারবে না। করলেও সেটা টিকিয়ে রাখতে পারবে না। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরপরই দক্ষিণপন্থীরা আন্দোলনের ভরকেন্দ্র থেকে রূপান্তরবাদী র‍্যাডিক্যালদের বড় অংশকে বিচ্ছিন্ন করে নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে তাড়িয়েছে। তারপর নিজেরা অভ্যুত্থানের এজেন্সি দাবি করে চারদিকে মব তৈরি করেছে এবং সমাজে একটা দাপুটে ভাব নিয়েছে মূলত প্রশাসনকে নিজেদের প্রভাবে রাখার জন্য। সে কাজে তারা সফলও হয়েছে। কিন্তু তার নেতিবাচক পার্শ্বফল হিসেবে সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে এগোনো এখন কঠিন হবে। ঔপনিবেশিক প্রশাসনের কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠী আন্দোলনকারীদের বিভক্তির সুযোগ নেবেই।

নির্বাচন নিয়ে আলাপ হচ্ছে চারদিকে। কেউ কেউ অনিশ্চয়তাও দেখছেন। আপনি কি মনে করছেন?

আলতাফ পারভেজ: দেশের মানুষের ন্যূনতম চাওয়া এখন নির্বাচন। নির্বাচন হলে যে সাধারণ মানুষের বড় কোনো পরিবর্তন হয়ে যাবে, এমন নয়। কিন্তু মানুষ চায় দেশ অন্তত দ্রুত নির্বাচনী সংস্কৃতিতে হাঁটুক। মানুষের এই চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন হওয়া দরকার। স্থানীয় নির্বাচন না হওয়ায় উন্নয়নকাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষ রাজনৈতিকভাবে এতিম হয়ে আছে। আর জাতীয় নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় দেশ কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় আছে। কিন্তু নির্বাচন আদৌ শিগগির হবে কি না, এই নিয়ে সমাজে বড় ধরনের অনিশ্চয়তাও আছে। সবাই চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক একটা নির্বাচন হয়ে যাক। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়িয়ে অনেক শক্তি এটাকে পেছাতে চাইছে। কেউ কেউ আগামী বছর পর্যন্ত নির্বাচনকে টেনে নিতে চাইছে।

নির্বাচন পেছানোর অজুহাত ও যুক্তি হিসেবে সংস্কারকে সামনে আনা হচ্ছে। এটা বেশ বিস্ময়কর একটা প্রস্তাব। কারণ, ছোটখাটো প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, আইনগত সংস্কারের জন্য নির্বাচন পেছানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এখনই সেসব শুরু হতে পারে। গত আট মাসে কেন এ রকম সংস্কার হয়নি, সেটাই বরং প্রশ্ন জাগে?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন