বিএনপি ও এনসিপি: কার আয়নায় কে দেখে মুখ

প্রথম আলো সোহরাব হাসান প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০৭

মাস কয়েক আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে নিয়মিত বাক্‌যুদ্ধ হতো। রাজনীতিতে বন্দুকযুদ্ধের চেয়ে বাক্‌যুদ্ধ শ্রেয়তর, যদি সেটি রুচি ও সীমার মধ্যে থাকে।


সাম্প্রতিককালে বিএনপি ও  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যেই বেশি বাক্যবাণের ঘটনা ঘটছে। প্রায় প্রতিদিনই এক দলের নেতা অপর দলের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ আনছেন। দুই দলই একে অপরের অভিযোগ খণ্ডন না করে পাল্টা অভিযোগের তির ছুড়ছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা পরোক্ষভাবে প্রতিপক্ষের অভিযোগের ‘সত্যতা’ স্বীকার করে নিচ্ছে বলে ধারণা করি।


৩ এপ্রিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা ওরফে বুলু বলেছেন, ‘কিছু উপদেষ্টা আছেন, যাঁরা একসময় ছাত্ররাজনীতি করতেন, হলে-মেসে থাকতেন, টিউশনি করতেন। অথচ এখন তারা পাঁচ-ছয় কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, সঙ্গে আরও ৩০-৪০ কোটি টাকার গাড়ির বহর থাকে।'


উপদেষ্টারা যে গাড়িতে চড়েন, সেটা সরকারের। সে ক্ষেত্রে কোটি টাকার গাড়ির জন্য তাঁদের অভিযুক্ত করা যায় না। বিএনপির নেতা কিন্তু এমন কথা বলেননি যে তারা ক্ষমতায় এলে সস্তা দামের গাড়ি চড়বেন; বরং অতীতের অভিজ্ঞতা হলো প্রতিটি সরকার মন্ত্রী–উপদেষ্টাদের জন্য দামি মডেলের গাড়ি কেনেন। মন্ত্রীরা দামি গাড়িতে চড়লে সচিব, যুগ্ম সচিব, ডিসি–এসপিরাও চড়বেন। টাকা তো কারও পকেট থেকে যাবে না। যাবে জনগণের পকেট থেকে।


এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ করে বুলু বলেন,  ‘ওনারা প্রশাসনের ওপর ফোর্স করেন—অমুককে বদলি করতে হবে, অমুকখানে অমুককে দিতে হবে। সচিবরা বলেন, তাঁরা তাঁদের ওপর ফোর্স করেন। প্রকৌশলীদের চাপ দেওয়া হয়—অমুককে এ জায়গায় দিতে হবে, অমুককে এ কাজ দিতে হবে।’


জনাব বুলুর এই অভিযোগ অসত্য নয়। আবার এ–ও সত্য, যেখানে বিএনপির ক্ষমতা আছে, সেখানে বিএনপিও পছন্দসই লোকদের বদলি ও পদোন্নতি করাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীও একই কাজ করছে; হিসাব মেলালে দেখা যাবে, বিএনপির পাল্লাই ভারী।


বুলু সাহেব এই সুযোগে জামায়াতকেও একহাত নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাঁরা ১৯৭১-কে অস্বীকার করেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তকে অগ্রাহ্য করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাশ কাটিয়ে কথা বলেন, তাঁরা জনগণের পক্ষে রাজনীতি করেন বলে আমরা মনে করি না। তাঁদের বাংলাদেশে ভোট চাওয়ার, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কিংবা রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।’


এর এক দিন আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময় রাজনৈতিক কারণে হামলার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। অবাধ্য ও অপরাধী নেতা–কর্মীদের বিএনপি বহিষ্কার করলেও হিংস্র কার্যকলাপ চলছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে ও অস্থির করে তুলছে।


বিএনপির অন্তঃকোন্দলের জেরে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি বলেছে, গত ৩০ মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে হামলার শিকার হন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমের বাবা আজিজুর রহমান (বাচ্চু মোল্লা)। হামলায় তাঁর হাত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা আজিজুর রহমান।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও