You have reached your daily news limit

Please log in to continue


পোশাক খাত হুমকিতে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি

গ্যাস-স্বল্পতায় দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শিল্পখাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস পাচ্ছে শিল্পকারখানা। শিল্পের মধ্যে গ্যাসের ব্যবহার পোশাক খাতেই বেশি। এ খাতে গত দুই বছর ধরেই গ্যাস সংকট চলছে। তবে নতুন করে গ্যাস সংকট উৎপাদন কাঠামোকে করে দিয়েছে এলোমেলো। এই খবরের মাঝে আরেক খবর হচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে পোশাক রপ্তানির ক্রয় আদেশ (ইউডি) ৪২ শতাংশ কমেছে, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

ফেব্রুয়ারি মাসের অপ্রত্যাশিত এই ধস পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। এই পরিসংখ্যান অনেক বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পমালিকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মূলত গত আগস্ট মাসে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এর প্রভাব পড়ছে পোশাক শিল্পেও। তখন ঢাকার আশেপাশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোয় ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। চলে অক্টোবর পর্যন্ত।

বিভিন্ন দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে আন্দোলন করতে থাকে পোশাক শ্রমিকরা। আর এই শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ হতে থাকে কারখানাগুলো। মুখ ঘুরিয়ে নিতে থাকে অনেক বিদেশি ক্রেতা। যদিও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবাই আশা করছিল—তাঁর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে পোশাকশিল্পে বড় একটি জাম্পিং আসবে। কিন্তু প্রত্যাশিত সেই জাম্পিং আসেনি। অস্থিরতার কারণে উলটো পোশাকশিল্প পড়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের মতো কারণগুলো এর জন্য দায়ী ছিল।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, গত বছরে তৈরি পোশাক নিটওয়্যার ও টেক্সটাইল শিল্পের ১৪০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ৯৪ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছে। তাছাড়া এটি দেশের প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের খাত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও ব্যাহত হয়। বলা হয়ে থাকে তৈরি পোশাক শিল্প হচ্ছে—ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবসায়িক সম্পর্কের ফল। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে সুনাম অর্জন করেছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, এটা মূলত বিগত তিন দশকের ফল।

এই সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বহুদিন ধরেই সক্রিয়। আগস্টে সরকার পতনের পর সৃষ্ট আন্দোলনেও এই ষড়যন্ত্রকারীরা ইন্ধন দেয়। অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা, হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে শিল্পকে বিপর্যস্ত করে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মপরিধি সংকুচিত করাটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। আর এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে ভাগ বসাতে চায়।

এর কারণ হচ্ছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকপণ্যের খ্যাতি যে উচ্চতায় পৌঁছে গেছে তা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ—ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়ার পোশাক পণ্য পৌঁছাতে পারেনি। তাছাড়া পোশাকশিল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষ থাকা চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানটিই বাংলাদেশের। ফলে দেশি-বিদেশি অপশক্তি, যারা বাংলাদেশের বাজার ধরতে চায় তারা বিভিন্ন উপলক্ষ্য সৃষ্টি করে শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে তোলে। তাদের বোঝানো হয়, বাংলাদেশের শ্রমিকরা শোষিত, তাদের ঠকানো হচ্ছে। নিজেদের অধিকার তাদের নিজেদেরই আদায় করতে হবে।

এই কারণে শিল্প মালিকদের গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বারবার বলতে শোনা গেছে, ‘একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দিতে শ্রমিক অসন্তোষের পুরোনো নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।’ বাংলাদেশে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পোশাকশিল্প কারখানা বন্ধ রাখা গেলে নিশ্চিতভাবেই অনেক ক্রয়াদেশ এখান থেকে অন্য দেশে চলে যাবে। আর এসব ক্রয়াদেশ স্বভাবতই প্রতিযোগী দেশগুলোই পাবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন