
চুনতির জাঙ্গালিয়া এলেই চালকদের হচ্ছেটা কী?
বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রের শহর কক্সবাজার যাওয়ার পথে বিপজ্জনক এক এলাকা লোহাগাড়ার চুনতির জাঙ্গালিয়া। হরহামেশাই সেখানে ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। কেবল ঈদের তিন দিনেই এ সড়কে মারা গেছেন অন্তত ১৫ জন। সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এই জাঙ্গালিয়া। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে আসছে— সড়কের অপ্রশস্ততা, চালকদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, বিপজ্জনক বাঁক, লবণের পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ার মতো নানা বিষয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ আবার এখানে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির হাতও দেখছেন।
স্থানীয়দের কারও কারও ধারণা- এই এলাকায় পৌঁছালেই ‘অশুভ শক্তি’ ভর করে গাড়িচালকদের ওপর। এখানে পৌঁছাতেই চালকরা সড়ক দেখেন কয়েকটি। এরমধ্যে একটি ধরে এগুতেই নিয়ন্ত্রণ হারান গাড়িচালকরা। আর তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা।
প্রশাসনের কর্তারাও এলাকাবাসী এবং গাড়িচালকদের এমন বিশ্বাসের কথা শুনেছেন। তবে এসব বিষয়ে তারা উড়িয়েই দিচ্ছেন। বলছেন সড়কের অপ্রশস্ততা, বিপজ্জনক বাঁক, উঁচু-নিচু এবং লবণের পানিতে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে সড়কের এই স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার কারণ যাই হোক, এগুলো শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাছান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা অনেক ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলেছি। এলাকাবাসীর সঙ্গেও কথা বলেছি। চালকদের কেউ কেউ বলেছেন এখানে তারা কয়েকটি রাস্তা দেখেন। এখানে মাজার ছিল বলে শুনেছি। এখন এটা তো আমাদের বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। আবার দুর্ঘটনার এ রকম কারণ আমরা বলতেও পারব না। তবে ধর্মীয় এই বিশ্বাস একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যায় না।